অদ্ভুত একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে

আমাদের আশেপাশের নক্ষত্রমণ্ডলীতে সবচেয়ে বিরল এবং গবেষণার জন্য সবচেয়ে কঠিন বস্তুগুলোর অন্যতম হল নিঃসঙ্গ বা বিচ্ছিন্নভাবে থাকা ব্রাউন ডোয়ার্ফ। তবে সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করেছেন যে, ডব্লিউ১৯৩৫ নামের অন্যতম পরিচিত একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ আসলে একটি নয়, বরং দুটি আলাদা ব্রাউন ডোয়ার্ফের সমষ্টি।

চ্যালেঞ্জিং কিন্তু আকর্ষণীয়

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের থেকে প্রায় ২০০ আলোকবর্ষের মধ্যে মাত্র ৫০টির মতো মুক্তভাবে ভাসমান ব্রাউন ডোয়ার্ফ সন্ধান পেয়েছেন, আর এগুলোর ব্যাপারে আমাদের জ্ঞানও খুব সীমিত। যেহেতু সাধারণ নক্ষত্রের তুলনায় ব্রাউন ডোয়ার্ফ অনেক শীতল, তাই স্বাভাবিকভাবেই এদের উজ্জ্বলতা অনেক কম এবং এরা দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলো বিকিরণ করে। প্রায় ৫০০ কেলভিন তাপমাত্রার এই বস্তুগুলোর একটি ছবি তোলার জন্য বিশেষায়িত টেলিস্কোপ দিয়ে দীর্ঘক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে হয়। কিন্তু দূরের গ্যালাক্সি থেকে শুরু করে সুপারনোভা বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার জন্য এই টেলিস্কোপগুলোর শিডিউল এমনিতেই বেশ ব্যস্ত থাকে।

হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা বৃহস্পতি এবং এর সুস্পষ্ট অরোরার একটি ছবি। [নাসা, ইসা, এবং জে. নিকোলস (ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টার); কৃতজ্ঞতা: এ. সাইমন (নাসা/জিএসএফসি) এবং ওপাল টিম]

তাই জেমস ওয়েবব স্পেস টেলিস্কোপের মতো চাহিদা সম্পন্ন একটি টেলিস্কোপ যখন ব্রাউন ডোয়ার্ফ গবেষণায় সময় ব্যয় করে, তখন এর পাঠানো তথ্যের প্রতি বাইট ডাটাই যেমন মূল্যবান হয়ে ওঠে, তেমনই নতুন কোনো আবিষ্কারের সম্ভাবনাও তৈরি করে। যা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার ঘটেছে: ২০২৩ সালে ‘এএএস জার্নালস ‘-এ প্রকাশিত (এবং এএএস নোভা-তে সংক্ষেপে আলোচিত) গবেষণায় জেমস ওয়েব- এর মাধ্যমে প্রথম ‘ওয়াই+ওয়াই’ বাইনারি সিস্টেম আবিষ্কারের কথা বলা জানা যায়। এরপর ২০২৪ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ-এ প্রথমবারের মতো মিথেন নির্গমন যা অরোরা বা মেরুপ্রভার লক্ষণ হিসেবে পরিচিত, সেটি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন।

সম্প্রতি জেমস ওয়েবব তার এই আবিষ্কারের ধারা অব্যাহত রেখে ডব্লিউ১৯৩৫ নামক সেই ব্রাউন ডোয়ার্ফ-কে পুনরায় পর্যবেক্ষণ করেছে, যেখানে প্রথমবার মিথেন নিঃসরণ পাওয়া গিয়েছিল। আর এবারও টেলিস্কোপটি চমকপ্রদ কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে।

একটি নতুন বাইনারি সিস্টেম

যখন জেমস ওয়েবব প্রথম এই ব্রাউন ডোয়ার্ফটিকে দেখেছিল তখন এটি এর নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে বস্তুটির স্পেক্ট্রাম বা বর্ণালী রেকর্ড করেছিল। এই ডেটায় ৩ মাইক্রনের কাছাকাছি একটি বড় স্পাইক বা চূড়া দেখা যায়, যা অবিকল একটি অরোরা থেকে নির্গত মিথেনের সাথে মিলে যায়—ঠিক যেমনটা আমরা সৌরজগতের গ্রহ বৃহস্পতিতে দেখি। এটি ছিল খুবই রোমাঞ্চকর একটি  আবিষ্কার, কারণ, বৃহস্পতির অরোরা তৈরি হয় এর কাছের উপগ্রহ আইও-এর প্রভাবে। তাই গবেষকরা ধারণা করছিলেন যে, ডব্লিউ১৯৩৫ এর এই অরোরার পেছনেও কি কোনো উপগ্রহ দায়ী হতে পারে কি না।

এই পর্যবেক্ষণের পরপরই জেমস ওয়েবব আবারও ডব্লিউ১৯৩৫ এর দিকে নজর দেয়, তবে এবার দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে এর ছবি তোলার জন্য মিড-ইনফ্রারেড ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হয়। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর ম্যাথিও ডি ফুরিও-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সম্প্রতি এই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি চমৎকার বিষয় লক্ষ্য করেছেন। ডব্লিউ১৯৩৫ কেবল একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ নয় বরং এটি প্রায় সমান ভরের দুটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ-এর একটি জোড়া, যারা একে অপরের খুব কাছাকাছি থেকে ১৬ থেকে ২৮ বছরের কক্ষপথে ঘুরছে।

আরও আকর্ষণীয় ব্যাপার

এএই আবিষ্কার ডব্লিউ১৯৩৫ কে এখন পর্যন্ত জানা দ্বিতীয় ‘ওয়াই+ওয়াই’ ডোয়ার্ফ বাইনারি সিস্টেম হিসেবে পরিচিত করেছে এবং আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক ব্রাউন ডোয়ার্ফ সিস্টেমগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত করেছে। এখন পর্যন্ত এটি পরিষ্কার নয় যে কোন বস্তুটি অরোরার সংকেতের জন্য দায়ী কারণ বস্তুগুলো একে অপরের এত কাছে যে নিখুঁত মডেলিং এবং ইমেজ প্রসেসিং ছাড়া তাদের ছবিগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে।

ডি ফুরিও-এর দল উল্লেখ করেছেন যে, জেমস ওয়েবব-এর আরেকটি ইনস্ট্রুমেন্ট বেশ কাজে আসতে পারে, আর তা হলো নিয়ারস্পেক-এর ভেতরে থাকা ইন্ট্রিগাল ফিল্ড ইউনিট স্পেকট্রোমিটার। যদি জেমস ওয়েবব পুনরায় এই আকর্ষণীয় সিস্টেমটিকে পর্যবেক্ষণ করে তবে এটি সময়ের সাথে অরোরার পরিবর্তনগুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারবে এবং বাইনারি সিস্টেমের নির্দিষ্ট কোন বস্তুটি এর জন্য দায়ী তা চিহ্নিত করতে পারবে। এবং এই মিথেন নির্গমনের পেছনে কোনো উপগ্রহের ভূমিকা আছে কি না, সে বিষয়েও আলোকপাত করতে পারবে। প্রতিবার যখনই জেমস ওয়েবব এই অদ্ভুত জগতগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়েছে তখনই আমরা নতুন কিছু জানতে পেরেছি, তাই আমরা কেবল আশা করতে পারি যে খুব শিগগিরই এটি আবারও সেই দিকে তাকাবে।

Translated from ‘A Strange Brown Dwarf Gets Stranger,’ AAS Nova, 17 October 2025. Translation by Joyeeta Kundu Aishi in collaboration with AI.