জীবন ও তারা
আন্টন পানেকুকের ‘আমাদের বিশ্বদর্শনের বিকাশ’ (১৯৫১), অধ্যায় ১
জ্যোতির্বিজ্ঞানের উৎপত্তি প্রাগৈতিহাসিক যুগে যখনকার কোনো লিখিত নথি টিকে নেই। ইতিহাসের ঊষালগ্নে আমরা প্রাচীনতম লিখিত নথিতে এমন ইঙ্গিত পাই যে জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন ঘটনা তখনি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল, ঠিক যেমন আজকের দিনের অনেক আদিবাসী জাতির মধ্যে নক্ষত্র ও মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে এক ধরণের জ্ঞান দেখা যায়।
কোন বিষয়টি আদিম মানুষকে পৃথিবী থেকে চোখ সরিয়ে উপরের আকাশের দিকে তাকাতে বাধ্য করেছিল? উজ্জ্বলতা বর্ণ ও বিন্যাসের এক বিস্ময়কর বৈচিত্র্যে ভরা অসংখ্য বিকিরণশীল বিন্দুর সমন্বয়ে গঠিত তারাভরা আকাশের সৌন্দর্য কি তার নজর কেড়েছিল? আকাশের গম্বুজ জুড়ে তাদের গতির গাম্ভীর্যপূর্ণ নিয়মনিষ্ঠা এবং তার সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু অনিয়ম কি এসবের কারণ সম্পর্কে তার মনে কৌতূহল জাগিয়েছিল? পরবর্তী সময়ে এগুলো চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে, কিন্তু আদিম মানুষকে নিজের জীবন সুরক্ষিত রাখার জন্য এতটাই কঠোর সংগ্রাম করতে হতো যে সেখানে বিলাসিতার কোনো অবকাশ ছিল না। টিকে থাকার জন্য তাকে প্রকৃতির প্রতিকূল শক্তির বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই করতে হয়েছে। জীবনযুদ্ধই তার সমস্ত চিন্তা ও অনুভূতি দখল করে রেখেছিল এবং এই সংগ্রামের মাধ্যমেই তাকে প্রাকৃতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে এমন জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছিল যা তার জীবনকে প্রভাবিত করে, তার কাজ নির্ধারণ করে; সে এগুলো যত ভালোভাবে জানত, তার জীবন তত বেশি নিরাপদ হতো। এভাবেই জ্যোতির্বিদ্যার বিভিন্ন ঘটনা তার পরিবেশের অংশ এবং তার কর্মকাণ্ডের একটি উপাদান হিসেবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিল, তার মনোযোগ কেড়েছিল। বিজ্ঞানের উদ্ভব সত্য ও জ্ঞানের কোনো বিমূর্ত তাড়না থেকে হয়নি, বরং এটি ছিল জীবনেরই একটি অংশ এবং সামাজিক প্রয়োজন থেকে জন্ম নেওয়া এক স্বতঃস্ফূর্ত অনুশীলন।
দিন ও রাত্রির পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের এস্ট্রোনমিকেল ঘটনা মানুষ ও পশুর জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। আদিবাসী অনেক জাতি প্রায়ই সূর্যের উচ্চতা দেখে সূক্ষ্মভাবে দিনের সময় বুঝতে পারে; তাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য এটা প্রয়োজন। মিশনারিদের বর্ণনাতে পাওয়া যায়, পরিষ্কার দিনে এক আদিবাসী গোত্রের সদস্যরা সকালের সভায় ঠিক সময়ে উপস্থিত হতো, অথচ মেঘলা দিনে তারা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ভুল করে ফেলত। ইউরোপীয় কৃষকরাও এটি করতে পারত যদতিন না গির্জার ঘণ্টা ও পকেটঘড়ি এটা অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছিল। যখনই এর চেয়ে সূক্ষ্মভাবে সময় জানার প্রয়োজন পড়ত, তখন একটা ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপা হতো সময়ের সাথে।
মানুষের কার্যকলাপ নির্ধারণকারী অন্য প্রধান ঘটনাটা হলো ঋতু পরিবর্তন। উচ্চ অক্ষাংশে এটা একটা মৃত শীতকাল ও একটা প্রাচুর্যপূর্ণ গ্রীষ্মকালের মধ্যে পালাবদল; বিষুবরেখার কাছাকাছি এলাকায় এটা একটা শুষ্ক ও একটা বর্ষা কালের মধ্যে পালাবদল। আদিম শিকারি ও জেলেরা প্রাণীদের জীবনচক্র ও স্থানান্তরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কৃষক ও পশুপালকরা ঋতু অনুসারে তাদের কাজ, বীজ বপন, ফসল কাটা ও পশুর পাল নিয়ে তাদের বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করত। প্রকৃতির পরিবর্তনশীল দিক সম্পর্কে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতাই তাদের পথ দেখাত।
স্বয়ং আকাশের ঘটনাগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়া অপরিহার্য হয়ে ওঠে যখন শ্রম আরও জটিল রূপ নেয় এবং নতুন চাহিদা তৈরি হয়। যখন যাযাবর বা জেলেরা ভ্রাম্যমাণ বণিকে পরিণত হলো, তখন তাদের দিক-নির্ণয়ের প্রয়োজন দেখা দিল, যার জন্য তারা দিনের বেলা সূর্য এবং রাতের বেলা তারার মতো স্বর্গীয় জ্যোতিষ্ক ব্যবহার করত। এভাবে চোখ ও মন তারাদের দিকে নিবদ্ধ হলো। আরবের প্রাচীনতম সাহিত্যে তারাদের নাম ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পলিনেশীয় ও মাইক্রোনেশীয়রা ছিল অভিজ্ঞ নাবিক, তারা রাতের সময় নির্ধারণ করতে তারাদের ব্যবহার করত; তারার উদয় ও অস্ত যাওয়ার স্থানগুলো স্বর্গীয় দিক-নির্ণয় যন্ত্র হিসেবে কাজ করত, এবং রাতের বেলা সেগুলোর সাহায্যে তারা নিজেদের জাহাজ চালাত। তাদের বিদ্যালয়ে বাচ্চাদেরকে গোলকের মাধ্যমে জ্যোতির্বিদ্যার আর্ট শেখানো হতো। ইউরোপীয়দের সাথে যে-সংস্পর্শ তাদেরকে দৈহিক ও নৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল, তার কারণেই তাদের এই স্বকীয় বিজ্ঞান হারিয়ে যায়।
সময় পরিমাপের প্রয়োজন ছিল আরেকটি প্রণোদনা যা আকাশের ঘটনার নিবিড় পর্যবেক্ষণের দিকে মানুষকে চালিত করেছিল। দিক-নির্ণয় বাদ দিলে, সময় গণনা ছিল জ্যোতির্বিদ্যার প্রাচীনতম চর্চা, যা থেকে পরে বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছিল। সূর্য ও চাঁদের পিরিয়ডই সময় গণনার স্বাভাবিক একক, তবে কখনও কখনও উচ্চতর জ্ঞানের আকর্ষণীয় ফলাফল হিসাবে অন্যান্য পর্যায়কালও দেখা গিয়েছিল; যেমন মেক্সিকানদের মধ্যে শুক্র-পর্যায় এবং ভারতীয়দের মধ্যে বৃহস্পতি-পর্যায়। সূর্য তার বার্ষিক পিরিয়ড প্রকাশ করে ঋতুচক্রের মাধ্যমে, কিন্তু চান্দ্র দশার পর্যায়টি আরও চোখে পড়ার মতো এবং সংক্ষিপ্ততার কারণে আরও বেশি ব্যবহারিক। তাই যেখানে জলবায়ুগত ও কৃষিভিত্তিক ঋতু অপ্রতিরোধ্যভাবে চেপে বসেনি, সেখানের ক্যালেন্ডারে চাঁদের প্রভাবই ছিল বেশি।
যাযাবর জাতিরা তাদের পঞ্জিকা পুরোপুরি ২৯.৫ দিনের সাইনডিক পিরিয়ড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করত, যে সময়ের মধ্যে চাঁদের একটা নির্দিষ্ট কলা আবার ফিরে আসে। প্রতিবার যখন ক্রিসেন্ট নামে পরিচিত নতুন চাঁদ পশ্চিমের সন্ধ্যা আকাশে সরু বাঁকা রেখা হিসেবে দেখা দেয়, তখন ২৯ বা ৩০ দিনের একটি নতুন মাস শুরু হয়; ফলে দিনের ঘণ্টাগুলি সন্ধ্যা থেকেই শুরু হতো। এভাবেই চাঁদ মানুষের প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বস্তুতে পরিণত হলো। ইহুদি মিদ্রাশ বলে, ‘দিন গণনার জন্যই চাঁদ সৃষ্টি করা হয়েছে।’ বিভিন্ন জাতির প্রাচীন বইগুলিতে বলা আছে যে চাঁদ সময় পরিমাপের জন্য কাজ করে। এটাই ছিল চন্দ্রপূজার ভিত্তি, চাঁদকে এমন এক জীবন্ত সত্তা হিসাবে পূজা করা হতো যা ক্ষয় ও বৃদ্ধির মাধ্যমে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে। অনুষ্ঠান ও নৈবেদ্য দিয়ে উদযাপন করা হতো চাঁদের প্রথম আবির্ভাব, এবং তার চেয়েও বেশি তার পূর্ণতা যখন সে রাতের অন্ধকার দূর করে দেয়।
শুধু পূজা-অর্চনাই নয়, বরং ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণও এর ফলে তৈরি হয়েছিল, যেমনটা দেখা যায় রাশিচক্রকে ২৭ বা ২৮টা আকর্ষণীয় চন্দ্র-মঞ্জিলে ভাগ করার মধ্যে। এগুলো হলো প্রায় ১৩ ডিগ্রি দূরত্বে অবস্থিত তারার ছোট ছোট এমন দল, যাতে চাঁদ স্বর্গীয় গোলক ধরে তার যাত্রাপথে একেক রাতে একেকটাতে থাকে। আরবদের কাছে ‘মঞ্জিল’ নামে পরিচিত হলেও ভারতীয়দের কাছে এর নাম ছিল ‘নক্ষত্র’ (তারা), আর চীনাদের কাছে ‘সিউ’ (রাতের সরাইখানা)। যেহেতু এই তিন ক্ষেত্রেই চন্দ্র-মঞ্জলগুলি প্রায় অভিন্ন, তাই অনুমান করা হয়েছে এই তিন জাতি একে অপরের কাছ থেকে এগুলো ধার করেছিল। তিন জাতির মধ্যে কোনটা আসল উদ্ভাবক ছিল অথবা প্রতিটাই মেসোপটেমিয়ান সংস্কৃতির কেন্দ্র থেকে এগুলো পেয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে মতভেদ আছে। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন উৎপত্তিও অসম্ভব বলে মনে হয় না, যেহেতু চন্দ্র-মঞ্জিলের মধ্যে অনেকগুলোই তারার বেশ স্বাভাবিক দল গঠন করে, যা অনেক সময় রাশিচক্রের বারোটা বৃহত্তর সৌর তারামণ্ডলের চেয়েও বেশি স্বাভাবিক। মেষ রাশির মাথা, মেষ রাশির পিছনের অংশ, কৃত্তিকা, রোহিণী (আলদেবারান সহ), বৃষ রাশির শিং, মিথুন রাশির পা, মিথুন জোড়া (ক্যাস্টর ও পোলক্স) নিজেরাই, কর্কট, সিংহ রাশির মাথা (রেগুলাস সহ), সিংহ রাশির পিছনের অংশ (ডেনেবোলা সহ)—এগুলো সবই সুস্পষ্ট দল। তবে, কম স্বাভাবিক এবং কম সুস্পষ্ট কিছু দলের মধ্যেও মিল পাওয়া যায়, যা পারস্পরিক ধারের দিকে ইঙ্গিত করে। এটা সুপরিচিত যে চীন ও ভারতের মধ্যে অনেক সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটেছিল, এবং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে আবিষ্কৃত ট্যাবলেটে সুমেরীয় লিপি পাওয়া গেছে।
সুতরাং, চাঁদের পিরিয়ডই ক্যালেন্ডারের প্রাচীনতম ইউনিট। কিন্তু এমনকি শুধু চাঁদভিত্তিক পঞ্জিকাতেও প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী পিরিয়ড ‘বছর’ প্রকাশ পায়, কারণ এখানেও বারোটা মাস আছে, এবং মাসগুলির নাম ঋতু পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করে: বৃষ্টির মাস, নবীন পশুদের বছর, বীজ বপন বা ফসল কাটার মাস। সাধারণত চান্দ্র ও সৌর হিসাবকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত করার একটা প্রবণতা তৈরি হয় সবখানেই।
কৃষিজীবী জাতিগুলো তাদের কাজের প্রকৃতির কারণে সৌর বছরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। প্রকৃতি নিজেই উচ্চ অক্ষাংশে বসবাসকারী জাতিদের ওপর এটা চাপিয়ে দেয়। ল্যাব্রাডরের এস্কিমোদের অন্ধকার শীতকালের জন্য কোনো নাম নেই, যখন বাইরের কাজ বন্ধ থাকে, কিন্তু বছরের বাকি সময়টার জন্য তাদের চৌদ্দটা নাম আছে। অনেক জাতি কৃষিকাজ বন্ধ থাকাকালীন মাসগুলোকে নামহীন রাখে; যেমন আমরা জানি রোমানদের প্রথমে কেবল দশটা মাস ছিল (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের নামগুলো সপ্তম থেকে দশম মাস বোঝায়) এবং পরে তারা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি যোগ করেছিল। আমাদের আধুনিক ক্যালেন্ডার, চান্দ্র দশার সাথে কোনো সম্পর্ক ছাড়াই, এখনও তার বারো মাসের মধ্যে প্রাচীন চন্দ্র-হিসাবের ঐতিহ্য বহন করে।
কৃষিভিত্তিক জাতিগুলো তাদের ক্যালেন্ডারে মাস বছর দুইটাই ব্যবহার করে, বিশেষ করে দক্ষিণের দেশগুলোতে যেখানে ঋতুর পরিবর্তন কম চরম। যেমন সাব-সাহারান আফ্রিকা ও পলিনেশিয়ার অনেক জাতি পূর্ণিমার সময় তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান পালন করে, কিন্তু তাদের ফসল তোলার উৎসব নির্ভর করে ঋতুর ওপর। তারা জানে ফসল সংগ্রহ ও বীজ বপনের মধ্যে কতগুলো চাঁদ পার হতে হবে এবং বন্য ফল সংগ্রহ ও শিকারের জন্য সঠিক মাস কোনগুলি।
তবে এখানে একটা অসুবিধা দেখা দেয়, কারণ অমাবস্যা ও পূর্ণিমার তারিখ সৌর বছরে ওঠানামা করে, ফলে চাঁদের দশা একটি সুনির্দিষ্ট ঋতুভিত্তিক তারিখ নির্দেশ করতে পারে না।
তখন গতি ও অবস্থানের মাধ্যমে আগে থেকেই সুপরিচিত তারারা আরো ভালো একটা সমাধান এনে দেয়। মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে রাতের একই সময়ে তারাদের অবস্থান ঋতু অনুসারে নিয়মিতভাবে পাল্টায়। ধীরে ধীরে একই অবস্থান রাতের আরো আগে আসতে থাকে; সবচেয়ে পশ্চিম দিকের তারাগুলো সন্ধ্যার আবছায়ায় অদৃশ্য হয়ে যায়, এবং ভোরের আলোয় নতুন তারাগুলো পূর্ব দিগন্তে উদিত হতে থাকে, প্রতি মাসে আরও আগে। ‘হেলিয়াকাল’ উদয়াস্ত নামে পরিচিত এই সকালের ওঠা আর সন্ধ্যার ডোবা এক্লিপ্টিক ধরে সূর্যের বার্ষিক গতির মাধ্যমে নির্ধারিত, এবং একটা তারার জন্য তা প্রতি বছর একই তারিখে পুনরাবৃত্ত হয়। একই ঘটনা ঘটে যখন একটি তারা সন্ধ্যার গোধূলিতে ওঠে (দৃশ্যমান উদয়ের শেষ প্রান্তে) বা ভোরের ঠিক আগে অস্ত যায়, যাকে ‘অ্যাক্রনিকিয়ান’ উদয়াস্ত বলা হয়। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা জানে যে বসন্তকাল শুরু হয় যখন কৃত্তিকারা সন্ধ্যায় উদিত হয়। টরেস প্রণালীতে বীজ বপনের সময়টা জানার জন্য খুব ভোরে কেক নামের একটি উজ্জ্বল তারার (সম্ভবত ক্যানোপাস বা একার্নার) উদয়ের দিকে গভীর নজর রাখা হয়। জাভা দ্বীপে দশটা ‘মাংগা’ (মাস) কালপুরুষের কোমরের তারাদের অবস্থান দ্বারা নির্ধারিত হয়; যখন এটা অদৃশ্য থাকে তখন মাঠে কাজ বন্ধ থাকে, আর এর সকালের উদয় কৃষি বছরের শুরু নির্দেশ করে।
নাক্ষত্রিক ঘটনাই সৌর বছরের তারিখ নির্দিষ্ট করার একমাত্র উপায় না; সূর্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। ২.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে বোর্নিওতে বসবাসকারী কিনজি-দায়াকরা দুপুরে একটি উল্লম্ব লাঠির ছায়ার দৈর্ঘ্য ব্যবহার করে; প্রথম মাসটা শুরু হয় শূন্য দৈর্ঘ্যের ছায়া দিয়ে, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাস শুরু হয় উপরের বাহুর ১/২ এবং ৩/৪ গুণ দৈর্ঘ্যের ছায়া দিয়ে। মাহাকাম নদীতে বীজ বপন শুরুর উৎসব দিগন্তে দুটি বড় পাথর দ্বারা চিহ্নিত একটি বিন্দুতে সূর্যের অস্ত যাওয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আমেরিকার জুনি ইন্ডিয়ান পুরোহিতরা সূর্যোদয়ের উত্তরতম বা দক্ষিণতম বিন্দুগুলো মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘতম ও ক্ষুদ্রতম দিন স্থির করে, যা অনেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়, এবং এস্কিমোরাও একই কাজ করে তাদের দেশে যেখানে উচ্চ অক্ষাংশের কারণে এই পদ্ধতিটা অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি নির্ভুল।
সময়কে বিভক্ত ও নিয়ন্ত্রিত করার প্রয়োজনীয়তা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন আদিবাসী মানুষ ও জাতিকে আকাশের জ্যোতিষ্ক পর্যবেক্ষণ করতে পরিচালিত করেছে, এবং এর মাধ্যমেই এস্ট্রোনমিকেল জ্ঞানের সূচনা হয়েছে। ঐতিহাসিক ঐতিহ্য আমাদেরকে এই নিশ্চয়য়তা দেয় যে এমন জ্ঞান প্রাগৈতিহাসিক সময়েও বিকশিত হয়েছিল। সেসব উৎস থেকে, সভ্যতার উত্থানের সময়, বিজ্ঞান প্রথমে আবির্ভূত হয়েছিল সবচেয়ে প্রাচীন সংস্কৃতির মানুষদের মধ্যে, আমাদের প্রাচ্যে।




