Table of Contents
This is an old revision of the document!
৫. কেমিকেল যুগ
জুনো: আমাদের নৌকা এখন ব্রহ্মপুত্র থেকে যমুনায় যাচ্ছে, কেমিকেল যুগের কথা শুরু করার এখনি সময়, কারণ মথুরার কৃষ্ণ আর আগ্রার তাজমহলের কারণে ইয়ামুনার সাথে প্রাণের গভীর রূপক সম্পর্ক আছে। তবে এই যুগ শুরু করতে হলে আমাদেরকে আগে পৃথিবীর ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাস একটু ঝালাই করে নিতে হবে, কারণ এর মধ্যে প্রথম ৪০০ কোটি বছরই হবে আমাদের পার্থিব কেমিকেল যুগ।
সক্রেটিস: তার মানে কেমিকেল যুগে আমরা শুধু পৃথিবীতে ফোকাস করব?
জুনো: শুধু একটা গ্রহের জটিল কেমিস্ট্রির ইতিহাসই যেহেতু আমরা জানি সেহেতু এই যুগে পৃথিবী নিয়ে চিন্তা করাই যৌক্তিক হবে। কিন্তু আলোচনা শেষে আমরা সৌরজগতের ভিতরে বা বাইরে অন্য গ্রহে জটিল অণু ও প্রাণ খোঁজার উপায় নিয়েও কথা বলব। আসলে আমাদের প্ল্যান এখানে অনেকটা গ্রহ যুগের মতোই। গ্রহ যুগে হার্মিস মূলত সৌরজগতের উপর ফোকাস করেছিল, কিন্তু শেষে অন্যান্য তারার চারদিকে গ্রহ আবিষ্কার নিয়েও কথা বলেছে।
সক্রেটিস: ভালো প্ল্যান। তাহলে শুরু করো।
৫. কেমিকেল যুগ
জুনো: আমাদের নৌকা এখন ব্রহ্মপুত্র থেকে যমুনায় যাচ্ছে, কেমিকেল যুগের কথা শুরু করার এখনি সময়, কারণ মথুরার কৃষ্ণ আর আগ্রার তাজমহলের কারণে ইয়ামুনার প্রাণের গভীর রূপক সম্পর্ক আছে। তবে এই যুগ শুরু করতে হলে আমাদেরকে আগে পৃথিবীর ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাস একটু ঝালাই করে নিতে হবে, কারণ এর মধ্যে প্রথম ৪০০ কোটি বছরই হবে আমাদের পার্থিব কেমিকেল যুগ।
সক্রেটিস: তার মানে কেমিকেল যুগে আমরা শুধু পৃথিবীতে ফোকাস করব?
জুনো: শুধু একটা গ্রহের জটিল কেমিস্ট্রির ইতিহাসই যেহেতু আমরা জানি সেহেতু এই যুগে পৃথিবী নিয়ে চিন্তা করাই যৌক্তিক হবে। কিন্তু আলোচনা শেষে আমরা সৌরজগতের ভিতরে বা বাইরে অন্য গ্রহে জটিল অণু ও প্রাণ খোঁজার উপায় নিয়েও কথা বলব। আসলে আমাদের প্ল্যান এখানে অনেকটা গ্রহ যুগের মতোই। গ্রহ যুগে হার্মিস মূলত সৌরজগতের উপর ফোকাস করেছিল, কিন্তু শেষে অন্যান্য তারার চারদিকে গ্রহ আবিষ্কার নিয়েও কথা বলেছে।
সক্রেটিস: ভালো প্ল্যান। তাহলে শুরু করো।
1. সমুদ্র ও বাতাস
জুনো: আনুমানিক ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর জন্ম। প্রথম ৫০ কোটি বছর পৃথিবীর পৃষ্ঠ অনেক গরম ও আগ্নেয়গিরিতে পরিপূর্ণ ছিল এবং নিজের অক্ষে সে অনেক জোরে ঘুরছিল, মাত্র ১২ ঘণ্টায় এক বার। তার উপর ভিতরের চারটা গ্রহ নির্মাণের পর বাকি থেকে যাওয়া অনেক পাথরের টুকরা ও ধূমকেতু মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছিল লেইট হেভি বম্বার্ডমেন্টের সময়। এই যুগের নাম হেডিয়ান এরা। এই যুগের কিছু অক্ষত জিরকন (ZrSiO$_4$) পাওয়া গেছে যা থেকে বুঝা যায় তখনি সমুদ্রের অস্তিত্ব ছিল।
সক্রেটিস: সমুদ্র কিভাবে তৈরি হয়েছে?
জুনো: আগ্নেয়গিরি এবং ক্রাস্টের সব ফাটল দিয়ে পৃথিবীর ভিতর থেকে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে উঠেছে, এই প্রক্রিয়ার নাম আউটগ্যাসিং। পৃথিবী ঠাণ্ডা হওয়ার পর এসব বাষ্প থেকে মেঘ এবং মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের একটা কারণ এই বৃষ্টি। তবে সমুদ্রের পানির একটা বড় অংশ বম্বার্ডমেন্টের সময় গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমেও সম্ভবত এসেছে। তখন সম্ভবত পুরো পৃথিবীই সমুদ্রে ঘেরা ছিল, কোনো বড় মহাদেশ ছিল না। সমুদ্র জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আগ্নেয় দ্বীপ, মানে বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির চূড়া। বাষ্প ও পানিতে অক্সিজেন ছিল, জিরকনে অক্সিজেন ছিল, কিন্তু মুক্ত আণবিক অক্সিজেন (O$_2$) তখন বায়ুমণ্ডলে একদমই ছিল না।
সক্রেটিস: বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের বৃদ্ধিই কি এই ফিগারে দেখাচ্ছ?
জুনো: শুধু বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াই দেখাচ্ছি না, সাথে সমুদ্রের কেমিকেল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও দেখানো হয়েছে। হেডিয়ানের পর আর্কিয়ান যুগ শুরু হয় ৪০০ কোটি বছর আগে থেকে। তবে পৃথিবীর ক্রাস্ট মোটামুটি স্থির হতে শুরু করে ৩৮০ কোটি বছর আগে, তখনই বর্তমান মহাদেশগুলোর পূর্বসূরি বিভিন্ন মাইক্রো-কন্টিনেন্টের জন্ম শুরু। ফিগারে দেখতে পাচ্ছ, ৩৫০ কোটি বছর আগে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাইক্রোবায়াল ম্যাট ছিল, মানে সমুদ্রের পানির পৃষ্ঠে স্তরে স্তরে সাজানো সায়ানোব্যাক্টেরিয়ার কলোনি। সবার উপরের স্তরের সায়ানোব্যাক্টেরিয়া সূর্যের আলো, কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি মিশিয়ে অক্সিজেন তৈরি শুরু করে দিয়েছিল তখনি, যে-প্রসেসের নাম ফটোসিন্থেসিস। এসব ম্যাট সময়ের সাথে পুরু হতে হতে এক সময় পাথরে পরিণত হয়েছে, যেসব পাথরের নাম স্ট্রোমাটোলাইট। স্ট্রোমাটোলাইট বিশ্লেষণ করেই আমরা জানতে পেরেছি মুক্ত অক্সিজেন কত আগে তৈরি হতে শুরু করেছিল।
সক্রেটিস: ফিগারের এক্স এক্সিসে সময়, কিন্তু ওয়াই এক্সিসে তো ঠিক অক্সিজেনের পরিমাণ দেখা যাচ্ছে না, দেখা যাচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে অক্সিজেনের অবদানের পরিমাণ, ১ মানে ১০০% আর ০.১ মানে ১০%, ০.০১ মানে ১%। এটা কি সরাসরি অক্সিজেনের পরিমাণই বুঝাচ্ছে?
জুনো: হ্যাঁ, ধরে নিতে পারো। বর্তমানে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১% এবং এটা শূন্য থেকে বাড়া শুরু করেছে ৩২০ কোটি বছর আগে থেকে, যেখান থেকে ড্যাশ-লাইনটা শুরু। প্রথম দিককার ফটোসিন্থেসিস অক্সিজেনিক ছিল না, মানে তাতে অক্সিজেন তৈরি হচ্ছিল না। এ সময়কার ব্যাক্টেরিয়া লোহার সাথে অক্সিজেন ও পানি মিশিয়ে সমুদ্রের তলায় আয়রন কম্পাউন্ড তৈরি করেছিল। অক্সিজেনিক ফটোসিন্থেসিস ভালোভাবে শুরু হয় ৩০০ কোটি বছর আগে থেকে। এই একই সময় মাইক্রো-কন্টিনেন্ট জোড়া লেগে বিভিন্ন মহাদেশ রূপ নিতে শুরু করে। নতুন তৈরি অক্সিজেন সমুদ্রতলের আয়রনের সাথে বিক্রিয়া করে পুরো সমুদ্র আয়রনে ভরে দিয়েছিল। ফিগারে ‘আয়রন ওশান’ বলতে এটাই বুঝানো হয়েছে।
সক্রেটিস: ফিগার দেখে মনে হচ্ছে, মুক্ত অক্সিজেন তৈরি হতে শুরু করার অনেক পরে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়া শুরু করেছে। পরিবেশে অক্সিজেন উৎপাদন শুরু ৩১০ কোটি বছর আগে, কিন্তু গ্রেট অক্সিডেশন ইভেন্ট হয়েছে ২১০ কোটি বছর আগে, মাঝখানে প্রায় ১০০ কোটি বছর কি বাতাসে অক্সিজেন বাড়তে পারেনি সমুদ্রে আয়রনের জন্যই?
জুনো: হ্যাঁ, আয়রন একটা কারণ। আরেকটা কারণ হতে পারে সমুদ্রে এমন অনেক মাইক্রোব যারা অক্সিজেন দিয়ে মেটাবলিজম করত, মানে জীবন ধারণ করত। সমুদ্রে অক্সিডাইজ করার যোগ্য আয়রনের পরিমাণ কমে আসার পরই সায়ানোব্যাক্টেরিয়ার বানানো অক্সিজেন সব বাতাসে মিশতে শুরু করে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন বেড়ে প্রায় ১% হয়ে যায়। এই অক্সিজেনের কারণে তখন সালফার অক্সিডাইজড হয়ে সমুদ্রে মিশতে শুরু করে এবং আমরা পাই ‘সালফাইড ওশান’। তারপর অক্সিজেনের পরিমাণ কিভাবে ১ থেকে ২০ পার্সেন্ট হয়েছে সেটা জৈব যুগের আলোচনার বিষয়, এখন না।
সক্রেটিস: তাহলে এখন কেমিকেল যুগের গোড়ায় ফিরে যাও। তুমি জিরকোনিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন, আয়রন, সালফার, কার্বন ইত্যাদি অনেক মৌলের কথা বললে। কিন্তু আমরা জানি বিগব্যাঙের পরে মহাবিশ্বে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম তৈরি হয়েছিল। বাকি সব রাসায়নিক মৌল কোত্থেকে আসলো?
2. পিরিয়ডিক টেবিল
জুনো: কোত্থেকে আসল বুঝার আগে পিরিয়ডিক টেবিল একবার দেখে নেয়া দরকার। বাম দিকে যে পার দেখছ তা আসলে শাখাহাতি চর, যমুনার মাঝখানে। ঐ ঘাটে নৌকা ভিড়ালে আমরা একটা দারুণ সাত তলা বিল্ডিং দেখতে পাব যা বানানো হয়েছে পিরিয়ডিক টেবিলের মতো করে।
সক্রেটিস: চলো তাহলে।
জুনো: এখন তো দেখতেই পাচ্ছ সবাই, ৭-তলা বিল্ডিংটা যমুনার দিকে মুখ করা, আর প্রত্যেক ফ্লোরে ১৮টা করে রুম। সবচেয়ে উপরের তলার নাম্বার ১, আর সবার নিচেরটার ৭। নিচের দুই তলার তিন নাম্বার রুম থেকে একটা দোতলা পিয়ার চলে এসেছে নদীর দিকে। এই পিয়ারেই নৌকা ভিড়ানো যায়।
[নৌকা ভিড়ে। সক্রেটিস সহ আট জন বিল্ডিংটার তারিফ করে নৌকায় বসেই।]
ইশ্তার: তাহলে বিল্ডিং দেখে-দেখেই আমাদেরকে পিরিয়ডিক টেবিলের বিউটি বুঝাও।
জুনো: একেক তলা পিরিয়ডিক টেবিলের একেক পিরিয়ড (রো), আর একেক রুম একেক গ্রুপ (কলাম)। পিরিয়ড ৭টা হলে গ্রুপ ১৮টা। কলামগুলোকে আবার চার ব্লকে ভাগ করা যায়: এস পি ডি এফ। প্রথম দুই কলাম নিয়ে হয় এস-ব্লক। এই ব্লকে হাইড্রোজেন ননমেটাল, এছাড়া প্রথম কলামের সবাই এল্কালি মেটাল (লাল), আর দ্বিতীয় কলামের সবাই এল্কালাইন আর্থ মেটাল (বেগুনি)। শেষ কলামের হিলিয়ামকেও এস-ব্লকে ফেলা হয়। হিলিয়াম ছাড়া ১৩ থেকে ১৮ নাম্বার কলামের সবাই পি ব্লকে। এদের মধ্যে আছে মেটালয়েড, পোস্ট-ট্রানজিশন মেটাল (সবুজ), হ্যালোজেন, ননমেটাল (হলুদ) আর নোবল গ্যাস (ব্রাউন)। এখানের কয়েকটা ননমেটাল প্রাণের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কার্বন (C), নাইট্রোজেন (N), অক্সিজেন (O), ফসফরস (P) ও সালফার (S), সংক্ষেপে সিনপ্স। কলাম ৩ থেকে ১২ পর্যন্ত ডি ব্লক, এখানের সবাই ট্রানজিশন মেটাল (নীল)। আর আমরা যে পিয়ারে ভিড়েছি এখানের সব মৌল এফ ব্লকে (সায়ান রং), নিচের তলায় এক্টিনাইড (Ac দিয়ে শুরু), তার উপরের তলায় ল্যান্থানাইড (La দিয়ে শুরু); এদের মধ্যে অনেকেই রেডিওএক্টিভ।
সক্রেটিস: রুম ঠিক ১১৮টা কেন?
জুনো: কারণ এখন পর্যন্ত মোট ১১৮টা মৌলিক এটমের কথা জানা গেছে। হাইড্রোজেনের এটমিক নাম্বার ১, ওগানেসনের ১১৮। এটমের কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, আর চারদিকে থাকে ইলেক্ট্রন। নিউক্লিয়াসে যে-কয়টা প্রোটন থাকে তাই এটমিক নাম্বার। প্রোটনের সমান পরিমাণ ইলেক্ট্রন থাকলে এটমটা হয় নিউট্রাল, ইলেক্ট্রন প্রোটনের চেয়ে বেশি বা কম হলে পাওয়া যায় আয়ন, বেশি হলে নেগেটিভ আয়ন (যেহেতু ইলেক্ট্রন নেগেটিভ), আর কম হলে পজিটিভ আয়ন। তবে একটা এটমের ধর্ম নির্ধারিত হয় প্রোটনের সংখ্যা দিয়ে।
সক্রেটিস: পরমাণুর ধর্ম বলতে কি বুঝাচ্ছ?
জুনো: উদাহরণ দিলে বুঝবে। যেমন স্বর্ণের (Au, লাতিন Aurum থেকে) মধ্যে ৭৯টা প্রোটন, এবং গোল্ড এমন সলিড যে ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও কঠিন থাকে, গলাতে হলে লাগে ১০৬৪° সেলসিয়াস। কিন্তু এর সাথে মাত্র একটা প্রোটন যোগ করলেই আমরা পাই পারদ (Hg, মার্কারি) যা −৪০° সেলসিয়াসেই গলে তরল হয়ে যায়, যেকারণে রুম টেম্পারেচারে থার্মোমিটারের ভিতরে পারদ তরল থাকে। তার মানে মাত্র একটা প্রোটন এটমের ধর্ম এতটা পাল্টে দিতে পারে।
সক্রেটিস: বুঝলাম। তো ১১৫ নাম্বারে যে মস্কোভিয়াম দেখছি তা কি শুধু মস্কোতে পাওয়া যায়?
জুনো: বিরক্তিকর কমেডি তোমার কমানো উচিত, সক্রেটিস।
সক্রেটিস: জাজমেন্ট রেখে উত্তর দাও।
জুনো: ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াসে ৯২টা প্রোটন, এর চেয়ে ভারী প্লুটোনিয়ামে ৯৪টা। এর চেয়ে বেশি প্রোটন যাদের তাদেরকে প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে সিন্থেসাইজ করেছেন। মস্কোভিয়াম বানানোর পিছনে মস্কোর বিজ্ঞানীদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল, তাই এমন নাম।
সক্রেটিস: প্লুটোনিয়ামের চেয়ে ভারী কোনো মৌল নেচারে নাই কেন?
জুনো: তা বুঝতে হলে আমাদেরকে কণা যুগের কথায় ফিরে যেতে হবে। আমরা রবির কাছ থেকে শুনেছিলাম, একই চার্জের দুইটা কণাকে অনেক কাছে নিয়ে আসলে তাদের ইলেক্ট্রোম্যাগ্নেটিক বিকর্ষণের চেয়ে প্রভাবশালী হয়ে যায় স্ট্রং ফোর্সের আকর্ষণ। এই কারণেই নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জের এত প্রোটন একসাথে থাকতে পারে। কিন্তু ৯৪টার বেশি প্রোটন থাকলে নিউক্লিয়াস আর স্টেবল থাকতে পারে না। এজন্যই নেচারে নাই, ল্যাবে বানাতে হয়।
সক্রেটিস: ল্যাবে নাহয় বানালাম, কিন্তু নেচারে স্বাভাবিকভাবে এত মৌলের জন্ম হলো কিভাবে। কণা যুগে তো আমরা দেখেছিলাম বিগব্যাঙের পর মহাবিশ্বে প্রধানত হাইড্রোজেন (৭৬ শতাংশ) আর হিলিয়াম (২৪ শতাংশ) তৈরি হয়েছিল। বাকি সব মৌল কোত্থেকে আসল?
জুনো: সেটাই এই ডায়াগ্রামে দেখানো হয়েছে, সূর্যের চেয়ে ৫০০ গুণ বড় একটা তারার মাধ্যমে। হিলিয়ামের চেয়ে ভারী কিছু মৌল বিগব্যাঙের পর-পর সামান্য পরিমাণে তৈরি হলেও পর্যায় সারণীর প্রায় সব মৌলের জন্ম হয়েছে তারার ভিতরে। প্রথম প্রজন্মের তারাদের ভর সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি ছিল, যেকারণে তারা অনেক ভারী মৌল বানাতে পেরেছে। কিভাবে তা তারা যুগে আমরা শুনেছি।
সক্রেটিস: আসলে শুনিনি। মার্স বলেছিল যে বড় তারাদের কোরে আয়রন পর্যন্ত মৌলের জন্ম হয়, কিন্তু কিভাবে তা সে ভালোভাবে বলেনি।
জুনো: তাহলে উপরের ডায়াগ্রামটা আবার দেখো। দেখবে জীবনের শেষ পর্যায়ে একটা বড় তারার কোর পেঁয়াজের মতো দেখায়, মানে তার অনেক লেয়ার থাকে। একদম কোরে আয়রন, তার বাইরে কয়েকটা শেল, প্রথম শেলে সিলিকন, তারপর যথাক্রমে ম্যাগ্নেসিয়াম, নিয়ন, অক্সিজেন, কার্বন, হিলিয়াম ও হাইড্রোজেনের শেল। তারাটা সারা জীবন ধরে এইসব মৌলের শেল বানিয়েছে। কিভাবে আবার শুনি আমরা। তারার কোরে সব হাইড্রোজেন হিলিয়ামে রূপান্তরিত হওয়ার পর নিউক্লিয়ার ফিউশন থেমে যায়, বহির্মুখী প্রেশার না থাকায় গ্র্যাভিটি তারাকে সংকুচিত ও উত্তপ্ত করে। এতে এক সময় কোরের কেন্দ্রের দিকের হিলিয়াম থেকে কার্বন তৈরি হয়, এবং তার বাইরে হিলিয়ামের একটা শেল থেকে যায়। কোরের সব হিলিয়াম কার্বন হয়ে গেলে ফিউশন আবার বন্ধ হয়, এবং আগের মতোই তারাটা সংকুচিত ও উত্তপ্ত হয়। এর ফলে কোরের কার্বন থেকে হয় অক্সিজেন, তার বাইরে কার্বনের একটা শেল থেকে যায়, এবং তার বাইরে থাকে আগের হিলিয়াম শেল। এইভাবে ফিউশন ও গ্র্যাভিটেশনের পারস্পরিক প্রভাবে একের পর এক লেয়ারের জন্ম হয়। সবচেয়ে ভারী মৌল থাকে কেন্দ্রে, যত বাইরে যাই তত হালকা মৌল পাওয়া যায়।
সক্রেটিস: ডায়াগ্রামের ডানে কি কোন বিক্রিয়া হতে কতদিন লাগে দেখাচ্ছ?
জুনো: কোন বিক্রিয়া তারার গর্ভে কতদিন ধরে চলে সেটা দেখানো হয়েছে, সেই সাথে প্রত্যেক ফিউশন বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রাও দেখানো হয়েছে মেগাকেলভিন ও গিগাকেলভিন ইউনিটে। ৫ মেগাকেলভিনে হওয়া হাইড্রোজেন ফিউশন চলে ৭ মিলিয়ন বছরে ধরে। আর ২.৫ গিগাকেলভিনে হওয়া সিলিকন ফিউশন ঘটে মাত্র ১ দিনের মধ্যে। তার মানে একটা ভারী তারার আয়রন কোর মাত্র এক দিনে তৈরি হয়, এই দিনকে বলা যায় তার জীবনের শেষ দিন।
সক্রেটিস: আয়রনে প্রোটন মাত্র ২৬টা। তাহলে ২৭ প্রোটনের কোবাল্ট থেকে শুরু করে ৯৪ প্রোটনের প্লুটোনিয়াম পর্যন্ত সব মৌল কোত্থেকে আসল? তারা তো বললে জীবনের শেষ দিনে পৌঁছে গেছে।
জুনো: তারা যুগে আমরা শুনেছি মৃত্যুর সময় এই ধরনের ভারী তারা বিস্ফোরিত হয় সুপারনোভা হিসেবে। মৃত্যুর সময় এক বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে তারা আমাদেরকে বাকি সব মৌল দিয়ে যায় উপহার হিসেবে। মহাবিশ্বের প্রতি এটা তারার শেষ দান। কিভাবে বলছি। আয়রনের চেয়ে ভারী মৌল সাধারণ ফিউশনের মাধ্যমে হতে পারে না, কারণ সেসব মৌল বানাতে যত শক্তি বিনিয়োগ করতে হয় তার চেয়ে কম শক্তি ফেরত পাওয়া যায় বানানোর পর। এই ধরনের লোকসানি বিক্রিয়া প্রকৃতি ঘটতে দেয় না। কিন্তু সুপারনোভা বিস্ফোরণের সময় হঠাৎ তারার মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ শক্তি বিমুক্ত হয় যে আরো ভারী মৌল বানানোর বিক্রিয়ায় শক্তি বিনিয়োগ করা যায়। বিস্ফোরণের মুহূর্তে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে আয়রনের চেয়ে ভারী অনেক মৌলের জন্ম হয়। তবে সুপারনোভা ছাড়াও আরো কিছু স্লো প্রসেস যার মাধ্যমে ভারী মৌল বানানো যায়। অত ডিটেলে আমরা যাব না।
3. পৃথিবীতে প্রাণ
4. হ্যাবিটেবল জোন
5. প্রাণ খোঁজার উপায়
