- English
- বাংলা
Table of Contents
This is an old revision of the document!
০. ইউনিভার্সের সাত যুগ
[বারজাখের এক সাধারণ রাস্তার ফুটপাতে।]
সক্রেটিস: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, কিন্তু সপ্তম জন কোথায়, ইশ্তার? গতকাল আমি তোমাদের সাত জনের গেস্ট ছিলাম, বিনিময়ে আজকে তোমাদের হওয়ার কথা ছিল আমার গেস্ট।
ইশ্তার: জুনো বরাবরের মতোই লেট।
সক্রেটিস: সাত জনকেই পাওয়া না গেলে তো আমাদের আলাপ ভালো জমবে না।
রবি: শুনেছি জুনো মানস সরোবর ও রাক্ষসতালের মাঝখানে এক বৌদ্ধ বিহারে গেছে সকালে, এখনো ফিরেনি। আমরা বারজাখ ছেড়ে এখন পৃথিবীতে নেমে গেলে কেমন হয়? তুমি তো আমাদেরকে সেখানেই আপ্যায়ণ করতে পারো।
সক্রেটিস: আইডিয়াটা খারাপ না। আর আমি যে আলোচনা দিয়ে তোমাদের আপ্যায়ণ করতে চাই তা মানস সরোবরের তীরেই সবচেয়ে ভালো মানাবে। চলো তাহলে।
[মানস সরোবর ও রাক্ষসতালের মাঝখানে।]
সক্রেটিস: কি খবর, জুনো? তোমাকে মিস করতে করতে আমরা আকাশ থেকে একদম পৃথিবীতে এসে পড়লাম।
জুনো: আমি বারজাখে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ লেকের পানিতে মেঘের ছায়া দেখে তোমাদের কথা ভুলে গেছি। জানো তো এখানে মেঘ কত রেয়ার।
সক্রেটিস: মেঘের দিকে আমার বেশি তাকানো ঠিক হবে না। মেঘ না দেখেই এরিস্টোফেনিসের গালি অনেক শুনে ফেলেছি ইতিমধ্যে।
জুনো: আচ্ছা মেঘ দেখতে হবে না। ঐ বিহারের ছাদে চলো, তোমরাও আসো সবাই। ছাদ থেকে একসাথে রাক্ষসতাল, মানস সরোবর ও কৈলাস পর্বত দেখা যায়।
সক্রেটিস: দেখার এত জিনিস থাকলে কি আমার কথার গিফট তোমাদের আর লাগবে?
জুনো: সেটাই তো টেস্ট, সক্রেটিস। গতকাল আমরা একটা আদর্শ রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র নিয়ে যে বিশাল আলোচনা তোমাকে উপহার দিয়েছি, তার বিনিময়ে আজকে তোমাকে এমন ভালো কিছু শোনাতে হবে যাতে আমাদের চোখ অন্য কোনোদিকে না ফিরে।
1. সাত যুগ
[মানস সরোবরের তীরে এক বৌদ্ধ বিহারের ছাদে।]
সক্রেটিস: আমি কথা বলব ইউনিভার্সের চৌদ্দ বিলিয়ন বছরের ইতিহাস নিয়ে। আমাদের উত্তরসূরি ইউরোপিয়ানরা ‘ইউনি’ আর ‘ভার্স’ মিলিয়ে ‘ইউনিভার্স’ শব্দটা বানিয়েছে। ‘ইউনি’ মানে এক, ‘ভার্স’ মানে রূপান্তরিত করা, ‘ইউনিভার্স’ মানে ‘এক জিনিসে রূপান্তরিত করা’। গতকাল তোমরা জাতির কথা বলছিলে, সেই জাতি তৈরির জন্য যে প্রতিষ্ঠান বানানো হয়েছে তার নাম ‘ইউনিভার্সিটি’ রাখার কারণ ‘ইউনিভার্সের’ অর্থের মধ্যেই পাওয়া যায়। ইউনিভার্সিটি যেমন সব স্টুডেন্ট-টিচারকে এক করে একটা জাতির পরিচয় বানায়, ইউনিভার্স শব্দটা তেমন মহাবিশ্বের সবকিছু একটা একক জিনিসের মধ্যে নিয়ে আসে। আমার হাত পা নাক মুখ কান হার্ট সহ অনেক অংশ আছে, কিন্তু সব মিলিয়ে আমি একটা একক মানুষ। তেমনি কসমিক ওয়েবের মধ্যে অনেক গ্যালাক্সি গ্যাস তারা গ্রহ উপগ্রহ গ্রহাণু আছে, কিন্তু সব মিলিয়ে ইউনিভার্স একটা একক জিনিস।
এই ইউনিভার্সের চৌদ্দ বিলিয়ন বছরের ইতিহাসকে সাত যুগে ভাগ করা যায়: পার্টিকেল, গ্যালাক্টিক, স্টেলার, প্ল্যানেটারি, কেমিকেল, বায়োলজিকেল, ও কালচারাল যুগ। প্রথম তিন লাখ বছর পার্টিকেল যুগ, আর শেষ তিন লাখ বছর কালচারাল যুগ।
রবি: মানস সরোবরের কাছের অনেক গ্লেসিয়ার থেকে যে ব্রহ্মপুত্র নদের জন্ম হয়েছে, তারও কিন্তু সাতটা স্টেজ আছে।
সক্রেটিস: ঠিক। এবং সময়ের সাথে নদীর একটা মেটাফরিকেল সম্পর্কও আছে। কি মনে হয়?
রিয়া: হ্যাঁ, নদীর মতোই আমাদের সময় শুধু এক দিকে যায়।
সক্রেটিস: তাহলে ইউনিভার্সের সময়ের সাথে ব্রহ্মপুত্র নদের তুলনাকে আমরা মেটাফর থেকে এলিগরিতে উন্নীত করতে পারি। ব্রহ্মপুত্রের সাত স্টেজ (আংসি, সাংপো, সিয়াং, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা, মেঘনা) হতে পারে ইউনিভার্সের সাত এইজের উপমা। শেকস্পিয়ার মানুষের জীবনের সাতটা এইজের কথা বলেছিলেন বাচ্চাকাল থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত। ইউনিভার্স জন্ম থেকে সাত যুগ পেরিয়ে এখন বেশ বড় হয়েছে। মেঘনার মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র গিয়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরে। সাগরের সাথেও কি ইউনিভার্সের সময়ের একটা সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছ?
রিয়া: আংসি থেকে মেঘনা পর্যন্ত সব নদীকে যদি অতীত আর বর্তমানের সাথে তুলনা করা হয়, তবে সাগর তো নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের রূপক।
সক্রেটিস: ঠিক তাই। নদী যেমন অতীতের মতো সরু, সাগর তেমনি ভবিষ্যতের মতো প্রশস্ত। অতীতে আমার জীবনে কেবল এক সেট ঘটনাই ঘটেছে, দুই তীর দিয়ে বাঁধা নদীর মতো। কিন্তু ভবিষ্যতে অনেক কিছু ঘটতে পারে, সমুদ্রের মতোই সেখানে সম্ভাবনা অপার।
রিয়া: অসাধারণ, সক্রেটিস, তোমার সূচনা চমৎকার হয়েছে।
সক্রেটিস: থ্যাংক ইউ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কথা মনে আছে তো: ‘আমি চোখ এই আলোকে মেলব যবে, তোমার ওই চেয়ে দেখা সফল হবে’। তোমরা মনের চোখ না খুললে আমি দেখতে পারব না। মহাবিশ্বের প্রত্যেক যুগের সাথে ব্রহ্মপুত্রের প্রত্যেক স্টেজের সম্পর্কটা দেখানোর দায়িত্ব প্রথমে তোমাদের নিতে হবে। তারপর আমি আগামী সাত দিনে প্রত্যেক যুগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।
রিয়া: আমরা রাজি। কে কোনটা বলব?
সক্রেটিস: তা তো বুঝতেই পারছ। তোমাদের নামগুলি কাকতালীয়ভাবে সপ্তাহের সাত বারের সাথে, বা আমাদের আমলের সাত প্ল্যানেটের সাথে মিলে গেছে। রবির সাথে রবিবার ও সূর্য, লুনার সাথে সোমবার ও চাঁদ, মার্সের সাথে মঙ্গল বার বা গ্রহ; হার্মিস মার্কারির আরেক নাম হওয়াতে বুধের সাথে যায়, জুনো জুপিটারের কনসর্ট হিসেবে বৃহস্পতিবারের সাথে মিলে, ইশ্তার ভেনাসের পূর্বসূরি হিসেবে শুক্রের সাথে যায়, আর রিয়া স্যাটার্নের কনসর্ট হিসেবে শনির সাথে সম্পর্কিত। রবি শুরু করবে পার্টিকেল যুগের সাথে আংসির তুলনা দিয়ে, তার পর একে একে সবাই, আর রিয়া শেষ করবে কালচারাল যুগের সাথে মেঘনার তুলনা দিয়ে। রবি, শুরু করো।
2. সময় ও নদী
3. স্থান ও কাল
4. ছোট ও বড়
5. টাইমলাইন