Abekta

The Encyclopédie of CASSA

User Tools

Site Tools


bn:un:solar-system

Differences

This shows you the differences between two versions of the page.

Link to this comparison view

Both sides previous revisionPrevious revision
Next revision
Previous revision
bn:un:solar-system [2025/06/15 05:33] – [2. কেমিকেল কম্পোজিশন] asadbn:un:solar-system [2025/06/22 02:50] (current) – [2. কেমিকেল কম্পোজিশন] asad
Line 36: Line 36:
 অব্জার্ভ ও প্রেডিক্ট করা তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে একটু ভাবতে হবে। গ্রহের তাপমাত্রা কিভাবে প্রেডিক্ট করা যায় তা [[planet|গ্রহ]] আর্টিকেলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বুধ গ্রহের তাপমাত্রা গড়ে প্রেডিকশনের কাছাকাছি হলেও ১০০ থেকে ৭২৫ কেলভিন পর্যন্ত পাল্টায়, কারণ তার কোনো এটমস্ফিয়ার নাই এবং সে সূর্যের চারদিকে ৮৮ পার্থিব দিনে একবার আবর্তন করলেও নিজের অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরতে সময় নেয় দীর্ঘ ১৭৬ দিন, মানে এক মার্কারি-দিন দুই মার্কারি-বছরের সমান। এখানে এক মার্কারি-বছর থাকে দিন, আরেক মার্কারি-বছর থাকে রাত, ফলে একপাশ অনেক গরম আর অন্য পাশ অনেক ঠাণ্ডা হয়। বায়ুমণ্ডল না থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য আরো বেশি। অব্জার্ভ ও প্রেডিক্ট করা তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে একটু ভাবতে হবে। গ্রহের তাপমাত্রা কিভাবে প্রেডিক্ট করা যায় তা [[planet|গ্রহ]] আর্টিকেলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বুধ গ্রহের তাপমাত্রা গড়ে প্রেডিকশনের কাছাকাছি হলেও ১০০ থেকে ৭২৫ কেলভিন পর্যন্ত পাল্টায়, কারণ তার কোনো এটমস্ফিয়ার নাই এবং সে সূর্যের চারদিকে ৮৮ পার্থিব দিনে একবার আবর্তন করলেও নিজের অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরতে সময় নেয় দীর্ঘ ১৭৬ দিন, মানে এক মার্কারি-দিন দুই মার্কারি-বছরের সমান। এখানে এক মার্কারি-বছর থাকে দিন, আরেক মার্কারি-বছর থাকে রাত, ফলে একপাশ অনেক গরম আর অন্য পাশ অনেক ঠাণ্ডা হয়। বায়ুমণ্ডল না থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য আরো বেশি।
  
-শুক্রের তাপমাত্রা প্রেডিকশনের চেয়ে অনেক আলাদা হওয়ার কারণ তার প্রচণ্ড পুরু বায়ুমণ্ডলের [[greenhouse-effect|গ্রিনহাউজ ইফেক্ট]]। ভেনাসের এটমস্ফিয়ারে কার্বন ডাই অক্সাইড ৯৬ পার্সেন্টেরও বেশি, অক্সিজেন নাই, প্রেশার পৃথিবীর চেয়ে ৭০০ গুণ বেশি, আর তার আকাশ থেকে মাটিতে সালফিউরিক এসিডের বৃষ্টি হয়। পৃথিবীর তাপমাত্রাও প্রেডিকশনের চেয়ে ৩৩ ডিগ্রি বেশি গ্রিনহাউজ ইফেক্টের কারণে। গ্রিনহাউজ ইফেক্টের কারণেই পৃথিবীর সার্ফেসের তাপমাত্রা প্রাণের বিকাশের উপযোগী হয়েছে, কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি বেড়ে গেলে এই ইফেক্ট আর উপকারী থাকবে না। গত একশ বছর ধরে মানুষের শিল্প বিপ্লবের কারণে ঠিক এটাই হচ্ছে, তাপমাত্রা বেশি বাড়তে শুরু করেছে, গলতে শুরু করেছে হিমবাহের হিম। ইউরেনাস ও নেপচুনের তাপমাত্রা প্রেডিকশনের সবচেয়ে কাছাকাছি। জুপিটার ও স্যাটার্নের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়, যার কারণ এখনো অজানা।+শুক্রের তাপমাত্রা প্রেডিকশনের চেয়ে অনেক আলাদা হওয়ার কারণ তার প্রচণ্ড পুরু বায়ুমণ্ডলের [[greenhouse-effect|গ্রিনহাউজ ইফেক্ট]]। ভেনাসের এটমস্ফিয়ারে কার্বন ডাই অক্সাইড ৯৬ পার্সেন্টেরও বেশি, অক্সিজেন নাই, প্রেশার পৃথিবীর চেয়ে ৭০০ গুণ বেশি, আর তার আকাশ থেকে মাটিতে সালফিউরিক এসিডের বৃষ্টি হয়। পৃথিবীর তাপমাত্রাও প্রেডিকশনের চেয়ে ৩৩ ডিগ্রি বেশি গ্রিনহাউজ ইফেক্টের কারণে। গ্রিনহাউজ ইফেক্টের কারণেই পৃথিবীর সার্ফেসের তাপমাত্রা প্রাণের বিকাশের উপযোগী হয়েছে, কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি বেড়ে গেলে এই ইফেক্ট আর উপকারী থাকবে না। গত একশ বছর ধরে মানুষের শিল্প বিপ্লবের কারণে এটাই হচ্ছে, তাপমাত্রা বেশি বাড়তে শুরু করেছে, গলতে শুরু করেছে হিমবাহের হিম। ইউরেনাস ও নেপচুনের তাপমাত্রা প্রেডিকশনের সবচেয়ে কাছাকাছি। জুপিটার ও স্যাটার্নের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়, যার কারণ এখনো অজানা। 
 + 
 +প্রত্যেক গ্রহেই মানুষ কোনো না কোনো স্যাটেলাইট স্পেসক্রাফট বা স্পেসপ্রোব পাঠিয়েছে; অনেকগুলো স্যাটেলাইটের তথ্য পাওয়া যায় [[https://eyes.nasa.gov/apps/solar-system|নাসা আইসের ওয়েবসাইটে]]। মার্কারিতে পাঠানো সবচেয়ে সফল নভোযান মেসেঞ্জার ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বুধকে আবর্তন করেছে। এই গ্রহের মেরুতে সে বরফের স্তূপ আবিষ্কার করেছিল। ম্যাজিলান প্রথম ভিনাসের পুরো সার্ফেস ম্যাপ করেছিল ১৯৯৪ সালের আগে। অপোর্চুনিটি রোভার মার্সের সার্ফেসে কাজ করেছে ২০০৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত, ২০০৪ সালেই সেখানে সে ব্লুবেরি নামে পরিচিত কিছু মিনারেলের টুকরা পেয়েছিল যা প্রমাণ করেছে মার্সে অনেক আগে তরল পানি ছিল। 
 + 
 +জুপিটারের চারদিকে স্যাটেলাইট [[https://science.nasa.gov/mission/juno/|জুনো]] ২০১৬ থেকে শুরু করে এখনো ঘুরছে। জুনো আবিষ্কার করেছে যে জুপিটারের সার্ফেসে পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত যেসব বেল্ট দেখা যায় তাদের গভীরতা সার্ফেস থেকে ৩,০০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। আগে মনে করা হতো জুপিটারের কেন্দ্রে সলিড কোর আছে, কিন্তু জুনো দেখিয়েছে, এর কোরের বাউন্ডারি অস্পষ্ট এবং কোরের সবকিছু সলিড না, আশপাশের হাইড্রোজেনের সাথে মিশ্রিত। স্যাটার্নে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে [[https://science.nasa.gov/mission/cassini/|ক্যাসিনি-হাইগেন্স]], ২০১৭ পর্যন্ত। সে দেখিয়েছিল শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান আছে, তার কারণেই অন্য তারার চারদিকে ওশান ওয়ার্ল্ড আবিষ্কারকে অনেক বিজ্ঞানী গুরুত্ব দিচ্ছেন। 
 + 
 +ইউরেনাস ও নেপচুনের কাছ দিয়ে একমাত্র [[https://science.nasa.gov/mission/voyager/voyager-2/|ভয়েজার ২]] গিয়েছিল, যে এখন সৌরজগৎ ছাড়িয়ে আরো দূর ইন্টারস্টেলার মিডিয়ামের দিকে ছুটছে। ইউরেনাস সে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছিল ১৯৮৫ সালে, আর নেপচুন ৪৮০০ কিমি কাছ থেকে ১৯৮৯ সালে। ইউরেনাসে সে ১০টা নতুন মুন ও দুইটা নতুন রিং আবিষ্কার করেছিল, আর নেপচুনে পেয়েছিল ৬টা নতুন মুন ও চারটা নতুন রিং। তবে চার গ্যাস জায়ান্টের সবচেয়ে ডিটেল ছবি এখন পর্যন্ত তুলতে পেরেছে [[webb|ওয়েব টেলিস্কোপ]], চারটা ছবিই নিচে দেয়া আছে। 
 + 
 +{{:bn:un:jwst-planets.webp|}}
  
 ===== - কেমিকেল কম্পোজিশন ===== ===== - কেমিকেল কম্পোজিশন =====
-সৌরজগতের রাসায়নিক গঠন সাধারণত দুইভাবে মাপা যায়: সূর্যের ফটোস্ফিয়ার থেকে আসা আলোর স্পেক্ট্রাম বিশ্লেষণ, অথবা স্পেস থেকে পৃথিবীতে আছড়ে পড়া বা সরাসরি স্পেসে পাওয়া বিভিন্ন কার্বনেশাস কন্ড্রাইটের (সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন পাথর) কেমিকেল এনালাইসিস। পৃথিবীতে অনেক উল্কায় এদের পাওয়া গেছে। +সৌরজগতের রাসায়নিক গঠন সাধারণত দুইভাবে মাপা যায়: সূর্যের ফটোস্ফিয়ার থেকে আসা আলোর স্পেক্ট্রাম বিশ্লেষণ, অথবা স্পেস থেকে পৃথিবীতে আছড়ে পড়া বা সরাসরি স্পেসে পাওয়া বিভিন্ন কার্বনেশাস কন্ড্রাইটের (সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন পাথর) কেমিকেল এনালাইসিস। পৃথিবীতে অনেক উল্কায় এসব কন্ড্াইট পাওয়া গেছে। কন্ড্রাইটে বিভিন্ন মৌলের পরিমাণ অনেক নিখুঁতভাবে মাপা যায়, কিন্তু সৌরজগতের জন্মের সময় পরিমাণগুলো ঠিক এমন ছিল কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না, কারণ গত চার-পাঁচ বিলিয়ন বছরে কন্ড্রাইটের মধ্যে সব মৌলের পরিমাণ আর আগের মতো থাকার কথা না, বিশেষ করে ভলাটাইল অনেক মৌল হারিয়ে যাওয়ার কথা। সে তুলনায় সূর্যের ফটোস্ফিয়ার বিশ্লেষণ করে আদি সোলার নেবুলার অবস্থা বেশি ভালো বুঝা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে একুরেসি, ফটোস্ফিয়ারে কোন মৌল কি পরিমাণ আছে শুধু আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করে তা কন্ড্রাইটের মতো নিখুঁতভাবে মাপা যায় না। 
 + 
 +{{:bn:un:solar-abundance.webp?nolink&700|}}
  
 +উপরের পাইচার্টে সৌরজগতে বিভিন্ন মৌলের শতকরা পরিমাণ দেখানো হয়েছে: ৯৮ পার্সেন্টের বেশি কেবল হাইড্রোজেন আর হিলিয়াম। ইনার চার গ্রহ যেসব মৌল দিয়ে তৈরি তারা সৌরজগতের মোট ভরের ২ পার্সেন্টেরও কম গঠন করে। এসব মৌলের মধ্যে অক্সিজেন কার্বন নিয়ন নাইট্রোজেন, আর আয়রন সিলিকন ম্যাগ্নেসিয়াম সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে। গ্যাস জায়ান্টদের বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের পাশাপাশি আছে ভালো পরিমাণে সালফাইড পানি মিথেন ও এমোনিয়া।
bn/un/solar-system.1749987192.txt.gz · Last modified: by asad

Donate Powered by PHP Valid HTML5 Valid CSS Driven by DokuWiki