Abekta

Nothing human is alien to me

User Tools

Site Tools


This is an old revision of the document!


বিশ্বপ্রকৃতি: সর্গ ১

ভিনাস বন্দনা

ইনিয়াসের জননী, মানুষ ও দেবতার চির আনন্দ,
বিপুলা ভিনাস, তুমি স্বর্গের ধীরে চলা সব চিহ্নের
আড়ালে থেকে নিজেকে উজার করো জাহাজ-ভরা সমুদ্রে,
ফসল-ফলানো পৃথিবীতে, কারণ তোমার মাধ্যমে এই
জগতের সব জীব জন্ম নেয় দেখতে দুই চোখ ভরে
সূর্যের আলো; তোমার আগমনেই বাতাস পালায়,
ছত্রভঙ্গ হয় মেঘ; তোমার জন্য নিপুণ পৃথিবী
সাজায় ফুলের ডালি, সমুদ্র হাসে দিগন্তজোড়া হাসি,
আর শান্ত আকাশ ঝলমল করে আলোকের ঝরনায়।
যখন বসন্তের প্রথম দিন দেখায় তার মুখ আর
পশ্চিমের নতুন বাতাস ছড়ায়ে পড়ে সব বাধ ভেঙে,
তখন প্রথমে আকাশের পাখিরা তোমার আগমনি গায়,
দেবী, কারণ তোমার শক্তি ছিন্ন করে তাদের হৃদয়।
তারপর পোষা আর বন্য প্রাণীর দল সবুজ ঘাসের
মাঠে ছুটাছুটি করে ও সাঁতার কাটে খরস্রোতা নদীতে,
তোমার মায়ায় বিমোহিত হয়ে সব তোমার পিছনে ধায়
তুমি যেদিকেই নিয়ে যাও। সাগরে পাহাড়ে ঝরনার স্রোতে,
পাখিদের পাতার বাড়িতে ও শ্যামল প্রান্তরে সকলের
অন্তরে যাদুকরী প্রেম প্রবাহিত করে সব প্রজাতিকে
তুমি নিজেদের মতো নতুন নতুন প্রজন্মের জন্ম
দিতে প্ররোচিত করো।
                    অতএব যেহেতু কেবল তুমি এই ২১
বিশ্বপ্রকৃতির বিধানকর্তা, যেহেতু তোমাকে ছাড়া
কেউ জন্মাতে পারে না আলোর সৈকতে, তৈরি হয় না
সুখী আর সুন্দর কিছু, সেহেতু কামনা করি তোমাকেই
আমার এ কবিতার সঙ্গী হিসাবে, বিশ্বের প্রকৃতি
বিষয়ে যা লিখতেছি আমি আমার বন্ধু মেম্মিউসের
জন্য, যাকে তুমিই, দেবী, সব বর দিয়ে সফল করছ
সব কাজে। অতএব আরো বেশি করে, দেবী, আমার কথায়
ঢালো অমৃত সুধা।
                    সেই সাথে বিশ্বের জলে আর স্থলে ২৯
যুদ্ধের যত সব হিংস্র যজ্ঞরে দাও ঘুম পাড়ায়ে,
কারণ কেবল তুমি মানুষকে পারো খুশি করতে নীরব
শান্তি দিয়ে, যেহেতু সভ্যতার সকল বর্বতার
যুদ্ধোন্মাদ নেতা মার্স মাঝেমধ্যেই তোমার প্রেমের
অনির্বাণ আগুনে পরাস্ত হয়ে ঢলে পড়ে তোমারই
কোলে এবং সুঠাম ঘাড় পিছনে এলায়ে হাঁ করে তোমার
মুখের দিকে তাকায়ে তৃপ্ত করে তার তৃষ্ণার্ত চোখ,
শোয়া তার ভারী নিশ্বাস ছুঁয়ে-ছুঁয়ে যায় তোমার অধর।
এভাবে তোমার পূত শরীরে শুয়ে থাকার সময় উপর
থেকে দুই হাতে তাকে জড়ায়ে ধরে ঠোঁট থেকে মধুর কথা
ঝরায়ে চাও তোমার রোমানদের জন্য নীরব শান্তি।
কারণ দেশের এই অরাজকতার মাঝে আমি পারব না
নিশ্চিন্ত মনে আমার অংশ করতে, বা মেম্মিউস
বংশের এ মহান সন্তান পারবে না এমন সময়ে
দশের মঙ্গলের কাজে অবহেলা করতে।
                                                  তুমি পারবা ৪৪
কারণ দেবতাদের প্রকৃতি এমন যে তারা অনন্ত
জীবন যাপন করে চূড়ান্ত শান্তিতে আমাদের সব
কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে অনেক দূরে; কারণ বেদনা
ছাড়া, বিপত্তি ছাড়া, শুধু আপন শক্তিতে শক্তিমান
তাদের কিছু লাগে না আমাদের থেকে; তারা প্রসন্ন হয়
না ইবাদতে বা ক্ষুণ্ণ হয় না বিদ্রোহে।

মেম্মিউসের প্রতি

                                                  বাকিটা সময়, ৫০
তোমার সজাগ কান আর মনোযোগী মন সব পিছুটান
ভুলে নিয়োজিত করো সত্য দর্শনে, যাতে বিশ্বস্ত
ব্যাকুলতায় বানানো আমার এ উপহার বুঝার আগেই
তাচ্ছিল্যের সাথে ফেলে না দাও। কারণ তোমার জন্য
আমি এখন বলব দেবতা ও স্বর্গের সবচেয়ে উঁচা
জগতের কথা, বলব সবকিছুর আদি সূচনার কথা,
যার থেকে প্রকৃতি সব জিনিস বানায়, বড় করে আর
লালন করে, এবং যার মাঝে বিলয়ের পরে সবকিছু
আবার ফিরায়ে নেয়, যাকে দর্শন আলোচনার সময়
আমরাই ডাকি মৌলিক পদার্থ, সঞ্জননী বস্তু,
সর্বজনীন বীজ, আর প্রথম জিনিস, যেহেতু এদের
থেকেই সকল কিছুর সৃষ্টি।
                                   মানুষের জীবন যখন ৬২
সবখানে সকলের চোখের সামনে মাটিতে দলতেছিল
ধর্মের ভয়ানক ভারে—যে স্বর্গ থেকে মাথা বের করে
নশ্বর মানুষের দিকে তাকাত ভয়ংকর মুখ করে—
তখন প্রথম এক গ্রিক তার দিকে নশ্বর চোখ তুলে
তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াইছিল, কারণ HTML

bn/multiverse/de-rerum-natura/i.1681973613.txt.gz · Last modified: 2023/04/20 00:53 by asad

Donate Powered by PHP Valid HTML5 Valid CSS Driven by DokuWiki