- English
- বাংলা
Table of Contents
This is an old revision of the document!
২. গ্যালাক্টিক যুগ
সক্রেটিস: গতকাল রবি আমাদেরকে পার্টিকেল যুগ সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছে, এবং সাথে এটাও বলেছে যে তার দেয়া ধারণাটা এই যুগ আসলেই ‘বুঝার’ জন্য একদমই যথেষ্ট না। সত্যিকার অর্থে বুঝতে হলে গণিত ছাড়া গতি নাই। শশীর আজকে গ্যালাক্টিক যুগ নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা, যা চলতে থাকবে যতদিন আমরা সাংপো নদীতে আছি। কিভাবে শুরু করতে চাও?
শশী: এখন যেহেতু রাত বেশ গভীর, আমরা সাংপোর তীরে, আর আকাশেও মেঘ নেই, সেহেতু টেলিস্কোপ দিয়ে একটা গ্যালাক্সির ছবি তুলেই শুরু করা যায়।
রবি: ভালো আইডিয়া। শশী, তাহলে অশ্বিন-১ তুমিই চালাও।
সক্রেটিস: অশ্বিন-১ মানে?
রবি: আমাদের দুইটা টেলিস্কোপ আছে, দুই জনের নাম জেমিনাই কনস্টেলেশনে যমজ ভাই হিসেবে পরিচিত দুই তারা অশ্বিন ১ ও ২ এর নামে।
শশী: এই টেলিস্কোপ মাউন্টে বসানোর পর ফোন থেকে ইউনিস্টেলার অ্যাপ দিয়ে কানেক্ট করলাম, দেখো। এখন অ্যাপের ক্যাটালগে গিয়ে একটা গ্যালাক্সি সিলেক্ট করে ‘গোটু’ অপশনে ট্যাপ করলেই অশ্বিন চলা শুরু করবে। আমি ফোন দিয়ে অপারেটর হিসেবে জয়েন করেছি, তোমরা সবাই একই অ্যাপে গিয়ে অশ্বিনে অব্জার্ভার হিসেবে যুক্ত হলে টেলিস্কোপ যা দেখছে তাই ফোনে দেখতে পারবে।
জুনো: হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় হোয়ার্লপুল গ্যালাক্সিটা টার্গেট করা উচিত।
শশী: আচ্ছা এই ট্যাপ করলাম। এখন সবাই দেখতে পাচ্ছ অশ্বিন-১ হোয়ার্লপুলের দিকে যাচ্ছে। পৌঁছে গেছে। এখনো গ্যালাক্সিটা দেখা যাবে না, কারণ আমরা লাইভ মোডে দেখছি, ফোটন জমা করছি না। এই ‘এনহান্সড ভিশনে’ ট্যাপ করলে অশ্বিন লাইট জমানো শুরু করবে। এই শুরু হলো। দেখতে পাচ্ছ নিচে এক্সপোজার টাইম, ৭ সেকেন্ড হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। হোয়ার্লপুল ইতিমধ্যেই হালকা দেখা যাচ্ছে। লাইট যত জমা হবে গ্যালাক্সি তত স্পষ্ট হবে।
সক্রেটিস: এ তো দেখি দুই গ্যালাক্সির মার্জার।
শশী: সামনে মেসিয়ে ৫১ নামে পরিচিত হোয়ার্লপুল, সাইজ প্রায় ৭৫ হাজার লাইট ইয়ার, আর তার একটু পিছনে মাত্র ১৫ হাজার লাইট ইয়ার সাইজের ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি এনজিসি ৫১৯৫ যার আরেক নাম এম ৫১এ। দুজনেই প্রায় তিন কোটি লাইট ইয়ার দূরে। নীলচে আলো আসছে নবীন তারা থেকে, আর লালচে আলো প্রবীণ তারা থেকে। আমাদের ইউনিভার্সে বর্তমানে প্রায় এক ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে যাদের সবাই তৈরি হয়েছিল ইউনিভার্সের চৌদ্দ বিলিয়ন বছরের ইতিহাসে প্রথম চার বিলিয়ন বছরের মধ্যে।
সক্রেটিস: তার মানে মহাবিশ্বের প্রথম তিন লাখ বছর যদি হয় পার্টিকেল যুগ বা কণা যুগ, তাহলে তার পর থেকে প্রায় চার বিলিয়ন বছর বয়স পর্যন্ত হলো গ্যালাক্টিক যুগ। কিন্তু তুমি গ্যাস-তারা-ধুলার যে বিশাল কাঠামো দেখাচ্ছ তার সাথে তিন লাখ বছর বয়সি ইউনিভার্সের কোনো মিল পাচ্ছি না। আরেকটু পরিষ্কার করি। গতকাল রবি আমাদেরকে মহাবিশ্বের তিন লাখ বছর বয়সের একটা ছবি দেখিয়েছে। ছবিটা দেখিয়ে রবি প্রমাণ করেছে যে ইউনিভার্স তখন একটা সিঙ্গেল বোরিং গ্যাস ছিল যার সবখানে তাপমাত্রা প্রায় সমান। তাপমাত্রার পার্থক্য যে ছিল না তা না, তবে খুব কম, গড়ে মাত্র ৩০০ মাইক্রোকেলভিন। এত বোরিং একটা গ্যাস থেকে চার বিলিয়ন বছরে এত বিশাল সব গ্যালাক্সি কিভাবে তৈরি হলো? একটা দুইটাও তো না, এক ট্রিলিয়ন, বা হয়ত আরো বেশি।
1. গ্যাস থেকে গ্যালাক্সি
2. মিল্কিওয়ে
3. গ্যালাক্সির ক্লাসিফিকেশন
4. এক্টিভ গ্যালাক্সি
5. বেগ থেকে বয়স