Abekta

The Encyclopédie of CASSA

User Tools

Site Tools


bn:courses:ast100:1

Differences

This shows you the differences between two versions of the page.

Link to this comparison view

Both sides previous revisionPrevious revision
Next revision
Previous revision
bn:courses:ast100:1 [2024/10/14 09:58] – [5. লাইট, কালার, টেলিস্কোপ] asadbn:courses:ast100:1 [2024/12/06 05:37] (current) asad
Line 1: Line 1:
-====== ১. পার্টিেল যুগ ====== +====== ১. কণা যুগ ======
 সক্রেটিস: ব্রহ্মপুত্রের জন্ম হিমালয়ের উত্তর ঢালে চিমায়ুংডুং ও আংসির মতো কিছু গ্লেসিয়ার থেকে, যারা এই মানস সরোবর থেকে মাত্র ৭১ কিমি পূর্ব দিকে। এসব গ্লেসিয়ার থেকে অনেক নদীই বের হয়ে এক স্রোতে মিশে সাংপো নদী তৈরি করে। একটা নদীর উৎস বের করা যত কঠিন, ইউনিভার্সের উৎস বের করা তার চেয়ে অন্তত ২৪ গুণ কঠিন। সক্রেটিস: ব্রহ্মপুত্রের জন্ম হিমালয়ের উত্তর ঢালে চিমায়ুংডুং ও আংসির মতো কিছু গ্লেসিয়ার থেকে, যারা এই মানস সরোবর থেকে মাত্র ৭১ কিমি পূর্ব দিকে। এসব গ্লেসিয়ার থেকে অনেক নদীই বের হয়ে এক স্রোতে মিশে সাংপো নদী তৈরি করে। একটা নদীর উৎস বের করা যত কঠিন, ইউনিভার্সের উৎস বের করা তার চেয়ে অন্তত ২৪ গুণ কঠিন।
  
Line 166: Line 165:
  
 রিয়া: আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু সিএমবি'র এই 'মাইক্রোওয়েভ' মানে কি? এই ফোটনগুলোকে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড কেন ডাকা হচ্ছে? রিয়া: আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু সিএমবি'র এই 'মাইক্রোওয়েভ' মানে কি? এই ফোটনগুলোকে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড কেন ডাকা হচ্ছে?
-===== - লাইটকালার, টেলিস্কোপ =====+===== - লাইট ও কালার =====
 রবি: সিএমবি'র রেডিয়েশন যখন ঘটেছিল তখন মহাবিশ্বের টেম্পারেচার ছিল ৩০০০ ডিগ্রি, তাই সিএমবি'র ওয়েভলেন্থ তখন ছিল ইনফ্রারেড রেঞ্জে, মানে কয়েক মাইক্রোমিটার, একটা সুইয়ের ডগার সমান। কিন্তু মহাবিশ্বের প্রসারণের সাথে এই দৈর্ঘ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে হয়েছে কয়েক মিলিমিটার, আমাদের নখের পুরুত্বের সমান, যা ইলেক্ট্রোম্যাগ্নেটিক (ইএম) স্পেক্ট্রামে মাইক্রোওয়েভ রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। আমাদের এই সিএমবি ছবি তাই তুলতে হয়েছে একটা মাইক্রোয়েভ টেলিস্কোপ দিয়ে। ইএম স্পেক্ট্রামের যে ফিগার এখানে দেখছ তার নিচের দিকে নীল রং দিয়ে দেখানো হয়েছে কোন আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে কত সহজে আমাদের কাছে আসতে পারে। নীল রং এখানে অপাসিটির প্রতীক, যা নিচে ০ উপরে ১০০, অপাসিটি যত বেশি ট্রান্সপারেন্সি তত কম। রবি: সিএমবি'র রেডিয়েশন যখন ঘটেছিল তখন মহাবিশ্বের টেম্পারেচার ছিল ৩০০০ ডিগ্রি, তাই সিএমবি'র ওয়েভলেন্থ তখন ছিল ইনফ্রারেড রেঞ্জে, মানে কয়েক মাইক্রোমিটার, একটা সুইয়ের ডগার সমান। কিন্তু মহাবিশ্বের প্রসারণের সাথে এই দৈর্ঘ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে হয়েছে কয়েক মিলিমিটার, আমাদের নখের পুরুত্বের সমান, যা ইলেক্ট্রোম্যাগ্নেটিক (ইএম) স্পেক্ট্রামে মাইক্রোওয়েভ রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। আমাদের এই সিএমবি ছবি তাই তুলতে হয়েছে একটা মাইক্রোয়েভ টেলিস্কোপ দিয়ে। ইএম স্পেক্ট্রামের যে ফিগার এখানে দেখছ তার নিচের দিকে নীল রং দিয়ে দেখানো হয়েছে কোন আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে কত সহজে আমাদের কাছে আসতে পারে। নীল রং এখানে অপাসিটির প্রতীক, যা নিচে ০ উপরে ১০০, অপাসিটি যত বেশি ট্রান্সপারেন্সি তত কম।
  
Line 204: Line 203:
  
 মার্স: আমরা ইউনিভার্সের ইতিহাসকে বা ব্রহ্মপুত্র নদকে যে-কারণে সাত ভাগে ভাগ করেছি সেই একই কারণে আইজাক নিউটন রেইনবোতে সাত কালার আরোপ করেছিলেন, মানে কাব্যিক কারণে। এই টেলিস্কোপের ছবিতেও অনেক কালার দেখা যায়। আমরা ফ্রিকোয়েন্সি ও কালার প্রতিশব্দ হিসেবে ইউজ করতে পারি। মার্স: আমরা ইউনিভার্সের ইতিহাসকে বা ব্রহ্মপুত্র নদকে যে-কারণে সাত ভাগে ভাগ করেছি সেই একই কারণে আইজাক নিউটন রেইনবোতে সাত কালার আরোপ করেছিলেন, মানে কাব্যিক কারণে। এই টেলিস্কোপের ছবিতেও অনেক কালার দেখা যায়। আমরা ফ্রিকোয়েন্সি ও কালার প্রতিশব্দ হিসেবে ইউজ করতে পারি।
 +
 +
 +===== - টেলিস্কোপ =====
 +রবি: রাত যেহেতু এসে গেছে সেহেতু আমাদেরকে এই টেলিস্কোপের একটা ডেমনস্ট্রেশন দিয়েই দাও।
 +
 +{{:bn:courses:ast100:equinox1.webp?nolink|}}
 +
 +মার্স: যেকোনো আধুনিক টেলিস্কোপের মূল পার্ট তিনটা: কালেক্টর, ডিটেক্টর, প্রসেসর। এই ফিগারে তিনটাই চিহ্নিত করা আছে যা তোমরা টেলিস্কোপের সাথে মিলিয়ে নিতে পারো। ট্রাইপডের উপর ভার্টিকেল স্ল্যাবটা বসালাম তা হলো একটা এল্টিচুড-এজিমুথ মাউন্ট, যার সাথে লাগানো একটা অপ্টিকেল টিউব। টিউবের নিচের প্রান্তে আছে কালেক্টর, এক্ষেত্রে একটা ১১-সেমি ব্যাসের মিরর, আর উপরের প্রান্তে আছে ডিটেক্টর, এক্ষেত্রে একটা সিসিডি সেন্সর। প্যারাবলিক শেইপের বাঁকা মিররে পড়া সব আলো রিফ্লেকশনের পর যেখানে মিলিত হয় সেখানেই রাখা আছে সেন্সর। তীর চিহ্ন অনুসরণ করলে বুঝতে পারবে। সেন্সর আলোর সব ফোটোনকে ইলেক্ট্রনে রূপান্তরিত করে তারের মাধ্যমে প্রসেসরে পাঠায় যা রাখা আছে ভার্টিকেল মাউন্টের ভিতরে। এক্ষেত্রে প্রসেসর একটা রাস্পবেরি পাই মিনি-কম্পিউটার যাতে ৬৪ গিগা স্টোরেজ আছে, আর আছে ওয়াইফাই মডেম। কম্পিউটার অন করার সুইচ ভার্টিকেল মাউন্টের সার্ফেসেই। আর এখানে পাওয়ার আসছে যে-ব্যাটারি থেকে তা রাখা আছে মাউন্টের হরিজন্টাল অংশটার ভিতরে, ট্রাইপডের ঠিক উপরে। সুইচ অন করলে টেলিস্কোপ নিজেই একটা ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করবে যার সাথে আমরা ফোনের 'ইউনিস্টেলার' অ্যাপ দিয়ে কানেক্ট করতে পারি। এই অ্যাপ দিয়েই টেলিস্কোপটা কন্ট্রোল করতে হয়।
 +
 +রবি: ছবিতে টেলিস্কোপের যেসব স্পেসিফিকেশন দেয়া আছে তাদের কি অর্থ?
 +
 +মার্স: যেকোনো টেলিস্কোপের দক্ষতা নির্ধারণ করা হয় মূলত দুইটা প্যারামিটার দিয়ে: রেজলুশন আর সেন্সিটিভিটি। একটা টেলিস্কোপ সবচেয়ে ছোট যে-অব্জেক্টটা দেখতে পারে তার সাইজই তার রেজলুশন, স্পেসিফিকেশনে এটা এঙ্গুলার রেজলুশন হিসেবে দেয়া আছে। এর মান যত কম টেলিস্কোপ তত ভালো, কারণ সে তত ছোট জিনিস দেখতে পারে। এর ইউনিট এখানে আর্কসেকেন্ড। মনে রাখতে হবে একটা বৃত্তকে ৩৬০ ভাগে ভাগ করা হয়, যার প্রতিটা ভাগ এক ডিগ্রি। এক ডিগ্রির ৬০ ভাগের এক ভাগ হলো এক আর্কমিনিট, আর এক আর্কমিনিটের ৬০ ভাগের এক ভাগ হলো এক আর্কসেকেন্ড। আমাদের টেলিস্কোপের রেজলুশন ১.৭২ আর্কসেকেন্ড, এমেচার হিসেবে খারাপ না। এঙ্গুলার রেজলুশন মিররের সাইজের উপর নির্ভর করে, আর পিক্সেল রেজলুশন নির্ভর করে সেন্সরের উপর, তাই একে সেন্সর রেজলুশন। পিক্সেল রেজলুশন ক্যামেরার মতোই ছবিতে মোট পিক্সেলের সংখ্যা নির্দেশ করে। আমাদের সেন্সরের রেজলুশন ৪.৯ মেগাপিক্সেল, মানে তার বানানো ছবিতে ৪৯ লাখ পিক্সেল থাকে। একটা ছবিতে আকাশের কতটুক এরিয়া কাভার করা হয় তা দেয়া আছে ফিল্ড-অফ-ভিউ হিসেবে, আমাদের ক্ষেত্রে যা প্রায় ৪০ আর্কমিনিট। চাঁদের সাইজ প্রায় আমাদের আঙ্গুলের সমান, প্রায় ৩০ আর্কমিনিট। সুতরাং এই টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদের ছবি তুললে প্রায় পুরা স্ক্রিন জুড়ে আসবে, কারণ প্রায় পুরা ফিল্ড-অফ-ভিউ চাঁদ একাই দখল করে নেবে।
 +
 +রবি: আর সেন্সিটিভিটি কি জিনিস?
 +
 +মার্স: একটা টেলিস্কোপ কত অনুজ্জ্বল অব্জেক্ট দেখতে পারে তা বুঝা যায় সেন্সিটিভিটি দিয়ে। এক্ষেত্রে সেন্সিটিভিটি বুঝানো হয়েছে লিমিটিং ম্যাগ্নিচুড দিয়ে, যার মান এখানে ১৮। ব্যাখ্যা করছি। প্রাচীন গ্রিকদের ফলো করে এস্ট্রোনমাররা আকাশের যেকোনো অব্জেক্টের এপারেন্ট ব্রাইটনেস (মানে পৃথিবীর আকাশে আপাত উজ্জ্বলতা) বুঝানোর জন্য একটা লগারিদমিক সিস্টেম বানিয়েছেন। এই সিস্টেমে যে-অব্জেক্টের ব্রাইটনেস যত বেশি তার ম্যাগ্নিচুড তত কম। সূর্যের এপারেন্ট ম্যাগ্নিচুড -২৬, চাঁদের -১৩, উজ্জ্বল তারাদের ০, এবং মানুষ খালি চোখে সর্বোচ্চ ৬ ম্যাগ্নিচুড পর্যন্ত দেখতে পারে। আমাদের টেলিস্কোপের লিমিটিং ম্যাগ্নিচুড ১৮, মানে সে ১৮-র বেশি ম্যাগ্নিচুডের অব্জেক্ট আর দেখতে পারে না। ৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত অনেক অব্জেক্টের ছবি আমরা এটা দিয়ে তুলতে পারব যা খালি চোখে কখনো দেখা সম্ভব না।
 +
 +রবি: তাহলে আকাশের একটা অব্জেক্টের ছবি তুলেই আমরা পার্টিকেল যুগের আলোচনা শেষ করি? 
 +
 +মার্স: নৌকা থেকে খুব ভালো ছবি আসবে না। আজকে বরং আমরা খালি চোখেই আকাশ দেখি। সাংপো নদী দিয়ে আরো কিছু দূর গিয়ে আমরা তীর থেকে ছবি তুলব আরেক দিন।
bn/courses/ast100/1.1728921485.txt.gz · Last modified: by asad

Donate Powered by PHP Valid HTML5 Valid CSS Driven by DokuWiki