Abekta

Nothing human is alien to me

User Tools

Site Tools


Differences

This shows you the differences between two versions of the page.

Link to this comparison view

Both sides previous revisionPrevious revision
Next revision
Previous revision
bn:courses:ast100:0 [2024/10/05 06:58] – [4. সংখ্যা: জুমারদের ইউনিভার্স] asadbn:courses:ast100:0 [2025/02/05 00:13] (current) – [1. সাত যুগ] asad
Line 1: Line 1:
 ====== ০. ইউনিভার্সের সাত যুগ ====== ====== ০. ইউনিভার্সের সাত যুগ ======
-//[বারজাখের এক সাধারণ রাস্তার ফুটপাতে]//+//[বারজাখের এক সাধারণ রাস্তার ফুটপাতে]//
  
 সক্রেটিস: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, কিন্তু সপ্তম জন কোথায়, ইশ্তার? গতকাল আমি তোমাদের সাত জনের গেস্ট ছিলাম, বিনিময়ে আজকে তোমাদের হওয়ার কথা ছিল আমার গেস্ট। সক্রেটিস: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, কিন্তু সপ্তম জন কোথায়, ইশ্তার? গতকাল আমি তোমাদের সাত জনের গেস্ট ছিলাম, বিনিময়ে আজকে তোমাদের হওয়ার কথা ছিল আমার গেস্ট।
Line 12: Line 12:
 সক্রেটিস: আইডিয়াটা খারাপ না। আর আমি যে আলোচনা দিয়ে তোমাদের আপ্যায়ণ করতে চাই তা মানস সরোবরের তীরেই সবচেয়ে ভালো মানাবে। চলো তাহলে। সক্রেটিস: আইডিয়াটা খারাপ না। আর আমি যে আলোচনা দিয়ে তোমাদের আপ্যায়ণ করতে চাই তা মানস সরোবরের তীরেই সবচেয়ে ভালো মানাবে। চলো তাহলে।
  
-//[মানস সরোবর ও রাক্ষসতালের মাঝখানে]//+//[[https://maps.app.goo.gl/s9pAmcqLSxfuzYec9|[মানস সরোবর ও রাক্ষসতালের মাঝখানে] ]]//
  
 সক্রেটিস: কি খবর, জুনো? তোমাকে মিস করতে করতে আমরা আকাশ থেকে একদম পৃথিবীতে এসে পড়লাম। সক্রেটিস: কি খবর, জুনো? তোমাকে মিস করতে করতে আমরা আকাশ থেকে একদম পৃথিবীতে এসে পড়লাম।
Line 52: Line 52:
 রিয়া: আমরা রাজি। কে কোনটা বলব? রিয়া: আমরা রাজি। কে কোনটা বলব?
  
-সক্রেটিস: তা তো বুঝতেই পারছ। তোমাদের নামগুলি কাকতালীয়ভাবে সপ্তাহের সাত দিনের সাথে, বা আমাদের আমলের সাত প্ল্যানেটের সাথে মিলে গেছে। রবির সাথে রবিবার ও সূর্য, লুনার সাথে সোমবার ও চাঁদ, মার্সের সাথে মঙ্গলবার; হার্মিস মার্কারির আরেক নাম হওয়াতে বুধবারের সাথে যায়, জুনো জুপিটারের কনসর্ট হিসেবে বৃহস্পতিবারের সাথে মিলে, ইশ্তার ভেনাসের পূর্বসূরি হিসেবে শুক্রের সাথে যায়, আর রিয়া স্যাটার্নের কনসর্ট হিসেবে শনিবারের সাথে সম্পর্কিত। রবি শুরু করবে পার্টিকেল যুগের সাথে আংসির তুলনা দিয়ে, তার পর একে একে সবাই, আর রিয়া শেষ করবে কালচারাল যুগের সাথে মেঘনার তুলনা দিয়ে। রবি, শুরু করো।+সক্রেটিস: তা তো বুঝতেই পারছ। তোমাদের নামগুলি কাকতালীয়ভাবে সপ্তাহের সাত দিনের সাথে, বা আমাদের আমলের সাত প্ল্যানেটের সাথে মিলে গেছে। রবির সাথে রবিবার ও সূর্য, শশীর সাথে সোমবার ও চাঁদ, মার্সের সাথে মঙ্গলবার; হার্মিস মার্কারির আরেক নাম হওয়াতে বুধবারের সাথে যায়, জুনো জুপিটারের কনসর্ট হিসেবে বৃহস্পতিবারের সাথে মিলে, ইশ্তার ভেনাসের পূর্বসূরি হিসেবে শুক্রের সাথে যায়, আর রিয়া স্যাটার্নের কনসর্ট হিসেবে শনিবারের সাথে সম্পর্কিত। রবি শুরু করবে পার্টিকেল যুগের সাথে আংসির তুলনা দিয়ে, তার পর একে একে সবাই, আর রিয়া শেষ করবে কালচারাল যুগের সাথে মেঘনার তুলনা দিয়ে। রবি, শুরু করো।
 ===== - সাত যুগ, সাত নদী ===== ===== - সাত যুগ, সাত নদী =====
 [[https://www.google.com/maps/@26.304294,89.4520107,1334755m/data=!3m1!1e3?entry=ttu&g_ep=EgoyMDI0MDkyMy4wIKXMDSoASAFQAw%3D%3D|{{:bn:courses:ast100:brahmaputra.webp?nolink|}}]] [[https://www.google.com/maps/@26.304294,89.4520107,1334755m/data=!3m1!1e3?entry=ttu&g_ep=EgoyMDI0MDkyMy4wIKXMDSoASAFQAw%3D%3D|{{:bn:courses:ast100:brahmaputra.webp?nolink|}}]]
Line 81: Line 81:
  
 রিয়া: আমার কিন্তু মনে হয় জীবের চেয়ে বড় বিপ্লব ছিল সংস্কৃতি, আর কালচারাল যুগের সাথে মেঘনার তুলনা সবচেয়ে স্বাভাবিক। শুরুতে মহাবিশ্ব একটা একক অবিচ্ছিন্ন গ্যাসের মতো ছিল, এই গ্যাস খণ্ডবিখণ্ড হয়ে ধীরে ধীরে আলাদা আলাদা অনেক কিছু তৈরি করেছে, কিন্তু এই সব সৃষ্টি আবার অন্য সৃষ্টির সাথে সব সময় মিলতে চেয়েছে। কালচার হচ্ছে আলাদা আলাদা জিনিসকে একত্রিত করার সবচেয়ে ভালো উপায়। মেঘনা নদীও এই কাজটাই করে। বাংলাদেশের অনেক নদী মেঘনায় এসে পড়ে, আর মেঘনা সবাইকে নিয়ে একসাথে ছুটে যায় বঙ্গোপসাগরের দিকে, ঠিক যেমন কালচার অনেক মানুষকে একসাথে নিয়ে ছুটে যেতে চায় ভবিষ্যতের দিকে, অন্তরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। রিয়া: আমার কিন্তু মনে হয় জীবের চেয়ে বড় বিপ্লব ছিল সংস্কৃতি, আর কালচারাল যুগের সাথে মেঘনার তুলনা সবচেয়ে স্বাভাবিক। শুরুতে মহাবিশ্ব একটা একক অবিচ্ছিন্ন গ্যাসের মতো ছিল, এই গ্যাস খণ্ডবিখণ্ড হয়ে ধীরে ধীরে আলাদা আলাদা অনেক কিছু তৈরি করেছে, কিন্তু এই সব সৃষ্টি আবার অন্য সৃষ্টির সাথে সব সময় মিলতে চেয়েছে। কালচার হচ্ছে আলাদা আলাদা জিনিসকে একত্রিত করার সবচেয়ে ভালো উপায়। মেঘনা নদীও এই কাজটাই করে। বাংলাদেশের অনেক নদী মেঘনায় এসে পড়ে, আর মেঘনা সবাইকে নিয়ে একসাথে ছুটে যায় বঙ্গোপসাগরের দিকে, ঠিক যেমন কালচার অনেক মানুষকে একসাথে নিয়ে ছুটে যেতে চায় ভবিষ্যতের দিকে, অন্তরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে।
-===== - স্পেস-ইম-এনারি-যাটার =====+ 
 +===== - স্থান--শকি-বসতু =====
 সক্রেটিস: অসাধারণ উপসংহার, রিয়া। সময়ের অস্তিত্ব যেহেতু এসেই পড়ল, আমার মনে হয় এটা নিয়েই আমাদের আরেকটু চিন্তা করা উচিত। সক্রেটিস: অসাধারণ উপসংহার, রিয়া। সময়ের অস্তিত্ব যেহেতু এসেই পড়ল, আমার মনে হয় এটা নিয়েই আমাদের আরেকটু চিন্তা করা উচিত।
  
 রিয়া: হ্যাঁ, এবং মেটাফর থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের একটু রিয়েল বিজ্ঞানেও মনোযোগ দেয়া উচিত। রিয়া: হ্যাঁ, এবং মেটাফর থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের একটু রিয়েল বিজ্ঞানেও মনোযোগ দেয়া উচিত।
  
-সক্রেটিস: কেন নয়? ইউনিভার্সের কিছু গাণিতিক নিয়ম আছে যাদের আল্টিমেট উৎস মানুষ জানে না। তাছাড়া আমরা মৃতরাও তা এখন পর্যন্ত জানি না। কিন্তু এসব নিয়ম যেসব জিনিসের উপর কাজ করে সেগুলো আমাদের চেনা। ইউনিভার্সে নিয়ম মেনে চলা যা-কিছু আছে তাদেরকে স্পেস, টাইম, এনার্জি, ম্যাটার (সংক্ষেপে 'স্টেম') এই চার ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। আইনস্টাইন বিশ শতকের শুরুতে এই চার জিনিস নিয়েই কাজ করেছিলেন। তার স্পেশাল রেলেটিভিটি বলে, স্পেস ও টাইম একই জিনিস, এবং এনার্জি ও ম্যাটার একই জিনিস। জেনারেল রেলেটিভিটি স্পেসটাইম ও এনার্জি-ম্যাটারের মধ্যে মৌলিক সম্পর্কটা জানায়। এই সুপারস্ট্রাকচারের গাণিতিক ভিত্তি আমি এখনো বুঝি না, যদিও তা বুঝা আমার ভবিষ্যৎ অনন্ত জীবনের একটা বড় উদ্দেশ্য+সক্রেটিস: কেন নয়? ইউনিভার্সের কিছু গাণিতিক নিয়ম আছে যাদের আল্টিমেট উৎস মানুষ জানে না। তাছাড়া আমরা মৃতরাও তা এখন পর্যন্ত জানি না। কিন্তু এসব নিয়ম যেসব জিনিসের উপর কাজ করে সেগুলো আমাদের চেনা। ইউনিভার্সে নিয়ম মেনে চলা যা-কিছু আছে তাদেরকে স্পেস, টাইম, এনার্জি, ম্যাটার (সংক্ষেপে 'স্টেম') এই চার ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। আইনস্টাইন বিশ শতকের শুরুতে এই চার জিনিস নিয়েই কাজ করেছিলেন। তার স্পেশাল রেলেটিভিটি বলে, স্পেস ও টাইম একই জিনিস, এবং এনার্জি ও ম্যাটার একই জিনিস। জেনারেল রেলেটিভিটি (জিআর) স্পেসটাইম ও এনার্জি-ম্যাটারের মধ্যে মৌলিক সম্পর্কটা জানায়। এই সুপারস্ট্রাকচারের গাণিতিক ভিত্তি আমি বুঝি না, যদিও তা বুঝা আমার ভবিষ্যৎ অনন্ত জীবনের একটা বড় কাজ
  
 রবি: কিন্তু এই গাণিতিক ভিত্তি না বুঝলে কি এটা নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ আছে? আমি মরার আগ পর্যন্ত রেলেটিভিটি নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করে যা বুঝেছি তা হলো, ম্যাথ না জানলে মানুষ এটা নব্বই পার্সেন্ট ভুল বুঝে। রবি: কিন্তু এই গাণিতিক ভিত্তি না বুঝলে কি এটা নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ আছে? আমি মরার আগ পর্যন্ত রেলেটিভিটি নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করে যা বুঝেছি তা হলো, ম্যাথ না জানলে মানুষ এটা নব্বই পার্সেন্ট ভুল বুঝে।
Line 92: Line 93:
 সক্রেটিস: কেন নব্বই, আমি বলব নাইন্টি-নাইন পার্সেন্ট ভুল আমি নিজেও করি। আমার একমাত্র জ্ঞান হলো আমি কিছু জানি না। সক্রেটিস: কেন নব্বই, আমি বলব নাইন্টি-নাইন পার্সেন্ট ভুল আমি নিজেও করি। আমার একমাত্র জ্ঞান হলো আমি কিছু জানি না।
  
-রবি: তাহলে তোমার কথার গিফটে তো আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি।  +রবি: তাহলে তোমার কথার গিফটে তো আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি।
-===== - নাম্বারের ইউনিভার্স =====+
  
 +সক্রেটিস: আরে আমার কথায় তরুণদের ক্ষতি হয়েছিল বলেই তো আমাকে হেমলক পান করে মরতে হলো। তাই এখন কারো ক্ষতি করতে ভয় পাই না। তবে যদি তুমি সত্যিই চাও কারো ক্ষতি না হোক, তাহলে নিজেই আমাদেরকে প্লিজ বলো ইউনিভার্সের স্পেসটাইম চিন্তা করার সবচেয়ে ভালো উপায় কি।
 +
 +রবি: বাংলায় বা ইংলিশে যা বলব তাই ভুল হতে বাধ্য, শুধু ম্যাথই ঠিকটা বলতে পারে। তোমরা যেহেতু স্পেসটাইমের ম্যাথ বুঝতে অক্ষম, তাহলে নিরানব্বই পার্সেন্ট ভুল ভার্সনটাই শোনো। আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে জিআর আবিষ্কার পরে মনে করেছিলেন, বিপুল পরিমাণ এনার্জি-ম্যাটার থাকার কারণে ইউনিভার্সের স্পেসটাইম অনেক বাঁকা হবে। পদার্থ যত বেশি থাকে, স্থান তত বেশি বাঁকে। এই চারমাত্রিক কার্ভেচারের গাণিতিক মডেলও তিনি বানিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ তো দূরের কথা, আমাদের পক্ষেও এই মডেলের চতুর্মাত্রিক বক্স ভিজুয়ালাইজ করা অসম্ভব। কিন্তু স্পেসের তিনটা মাত্রাকে যদি দুই মাত্রায় রিডিউস করি, স্থানকালের একটা ত্রিমাত্রিক মডেল চোখের সামনে একদম পরিষ্কার হয়ে যায়। আমি ট্যাব্লেটে আঁকলে বুঝতে পারবে। এই দেখো:
 +
 +{{:courses:phy100:spacetime.png?nolink|}}
 +
 +আইনস্টাইনের কার্ভবল নামে পরিচিত এই স্ফিয়ারের সার্ফেস হলো দুই মাত্রার স্পেস, আর রেডিয়াস বরাবর আছে টাইম। এই মডেলে ইউনিভার্সের সব এনার্জি-ম্যাটার একটা নির্দিষ্ট সময়ে একটা নির্দিষ্ট রেডিয়াসের স্ফিয়ারের কেবল সার্ফেসে থাকে। সময়ের সাথে রেডিয়াস বাড়ে, এবং ইউনিভার্সের সাইজও বাড়ে সার্ফেস এরিয়ার সাথে। আইনস্টাইন প্রথমে রেডিয়াস বাড়ার কথা ভাবেননি, তিনি এরিস্টটলের মতো সুস্থির মহাবিশ্বে বিশ্বাস করতেন। রেডিয়াস যাতে না পাল্টায় সেজন্য কসমোলজিকেল কনস্টেন্ট নামে একটা কনস্টেন্টও তার ইকুয়েশনে যোগ করেছিলেন। কিন্তু পরে ১৯৩০ সালের দিকে মহাবিশ্বের প্রসারণের প্রমাণ পাওয়ার পর কনস্টেন্টটা সরিয়ে নেন। একুশ শতকে মানুষ এই কনস্টেন্ট আবার ফিরিয়ে এনেছে রেডিয়াস থামানোর জন্য না, বরং রেডিয়াস বাড়ার স্পিড নিয়ন্ত্রণের জন্য।
 +
 +বর্তমানে আমরা জানি ইউনিভার্স সব দিকে একই রকম এবং সব জায়গায় তার ডেন্সিটিও গড়ে সমান। এটাও এই ত্রিমাত্রিক স্পেসটাইমের গোলক দিয়ে বুঝা যায়। গোলকের সার্ফেসটাকে পৃথিবীর সার্ফেস ভাবো, আর ভাবো তুমি প্যাসিফিকের এমন জায়গায় এক ভেলায় ভাসছ যেখান থেকে যেদিকে তাকাও শুধু পানি আর পানি, সব দিক একই রকম, এবং যেদিকেই যাও সবখানে পানির ঘনত্বও একই।
 +
 +সক্রেটিস: কিন্তু, রবি, উপরের দিকে তাকালে তো আর এক রকম দেখব না।
 +
 +রবি: আরে, সক্রেটিস, তুমি এখনো আগের মতোই একগুঁয়ে। স্পেসের তিন মাত্রা যদি আমরা শুরুতেই দুই মাত্রায় নামিয়ে আনি, তাহলে প্যাসিফিকের সার্ফেস ছাড়া কি আর স্পেস বলে কিছু থাকতে পারে?
 +
 +সক্রেটিস: না।
 +
 +রবি: আর এই সার্ফেস ছাড়া যদি স্পেসই না থাকে, তুমি উপরের দিকে তাকাবে কিভাবে? উপরে তাকাতে হলে তো আবার তিন মাত্রার স্পেস লাগবে যা আমরা এই মডেলের খাতিরে দুই মাত্রায় নামিয়ে এনেছি ইতিমধ্যে।
 +
 +সক্রেটিস: আচ্ছা, বুঝলাম।
 +
 +রবি: ইউনিভার্স সব দিকে একই রকম লাগার ব্যাপারটাকে কসমোলজিকেল প্রিন্সিপল বলে। ত্রিমাত্রিক এই মডেল ইউজ করে আমাদের ইউনিভার্সের আরো দুইটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমটা এই রকম। হাবল দেখতে পেয়েছিলেন, দূরের সব গ্যালাক্সি আমাদের থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে, এবং যে যত দূরে তার দূরে সরার বেগও তত বেশি। আসলে গ্যালাক্সিরা সরছে না, স্পেসটাইম প্রসারিত হচ্ছে। উপরের স্ফিয়ারটাকে যদি একটা বেলুন হিসাবে চিন্তা করি, আর প্রতিটা গ্যালাক্সি যদি এই বেলুনের উপরে একেকটা দাগ হয়, তাহলে বেলুন যত বড় হবে রেডিয়াস বা টাইম তত বাড়বে, সেই সাথে বেলুনের সার্ফেস এরিয়া বাড়বে এবং দাগগুলো (গ্যালাক্সি) একে অপরের থেকে দূরে সরতে থাকবে। প্রত্যেক দাগ মনে করবে বাকি সব দাগ তার থেকে দূরে সরছে, প্রত্যেকের মনে হবে সে-ই মহাবিশ্বের কেন্দ্রে, যেহেতু সবকিছু তার থেকে সরছে। কিন্তু আসলে কেউই কেন্দ্র না। একটা স্ফিয়ারের সার্ফেসের কোনো কেন্দ্র থাকে না, কিন্তু সার্ফেসের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে নিজেকে সবকিছুর কেন্দ্রে মনে হয়।
 +
 +সক্রেটিস: চমৎকার। আর দ্বিতীয়টা কি?
 +
 +{{https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/9/98/Observable_Universe_with_Measurements_01.png/768px-Observable_Universe_with_Measurements_01.png?nolink&500}}
 +
 +রবি: দ্বিতীয়টা এই রকম। আমরা পৃথিবী থেকে যেদিকেই আমাদের টেলিস্কোপ তাক করি না কেন সব দিকে সমান দূরত্ব পর্যন্ত দেখতে পাব। আইনস্টাইনের স্পেশাল রেলেটিভিটি অনুযায়ী আলোর বেগ কনস্টেন্ট হওয়াতে, আমাদের হরাইজন স্পেস ও টাইম দুই দিকেই সীমাবদ্ধ। উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ধরা যাক আমাদের তিনটা টেলিস্কোপ আছে, তাদের নাম এক্স, ওয়াই, জেড, এবং ধরা যাক সব গ্যালাক্সির এবসলুট বা আসল ব্রাইটনেস একই রকম। তাহলে যে টেলিস্কোপ যত সেন্সিটিভ সে তত দূরের গ্যালাক্সি দেখতে পাবে। এখন ধরি এক্স সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন লাইটিয়ার দূরের গ্যালাক্সি দেখতে পারে, ওয়াই দেখতে পারে ২ বিলিয়ন লাইটিয়ার দূর পর্যন্ত, আর জেড ৩ বিলিয়ন লাইটিয়ার পর্যন্ত। তাহলে এক্সের অব্জার্ভ করা ইউনিভার্স এক বিলিয়ন লাইটিয়ার রেডিয়াসের একটা বেলুন, ওয়াইয়ের বেলুনের রেডিয়াস দুই বিলিয়ন লাইটিয়ার, আর জেডের দেখা মহাবিশ্বের রেডিয়াস ৩ বিলিয়ন লাইটিয়ার।
 +
 +সক্রেটিস: কিন্তু এর সাথে আমাদের ত্রিমাত্রিক স্পেসটাইম বেলুন তো মিলছে না। ছবির বেলুনে রেডিয়াস ছিল টাইম, তোমার তিন টেলিস্কোপের অব্জার্ভেবল ইউনিভার্সে রেডিয়াস হলো স্পেস, কারণ তার ইউনিট লাইট ইয়ার।
 +
 +রবি: এখানেই তো চিন্তা করতে হবে। লাইট ইয়ার ডিস্টেন্সের ইউনিট হলেও এটা সময়ের সাথে সম্পর্কিত। এক বিলিয়ন লাইট ইয়ার দূরের গ্যালাক্সি দেখছি মানে সেটা এক বিলিয়ন বছর আগে কেমন ছিল তা দেখছি, কারণ সেখান থেকে আলো আসতে এক বিলিয়ন বছর লেগেছে। আলো সেকেন্ডে তিন লাখ কিমি স্পিডে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই এক লাইট ইয়ার, বা প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন কিমি। সুতরাং অব্জার্ভেবল ইউনিভার্সের বেলুনেও রেডিয়াস আসলে টাইম। এক্সের বেলুনের রেডিয়াস এক বিলিয়ন বছর, কারণ সে এক বিলিয়ন বছর অতীত পর্যন্ত দেখতে পারে।
 +
 +সক্রেটিস: এখানে আমার দুইটা অব্জার্ভেশন আছে। প্রথমত আইনস্টাইনের কার্ভবলের যে ছবি দেখালে সেটাও কি এক ধরনের মেটাফর না?
 +
 +রবি: ভালো পয়েন্ট। এটা ঠিক যে কার্ভবল ইউনিভার্সের বাস্তব ছবি না। আমাদের বিশ্ব চারমাত্রিক, এটাকে তিন মাত্রায় নামানো গাণিতিক দিক দিয়ে ট্রিভিয়াল হলেও মানসিক দিক দিয়ে অলীক। কিন্তু কার্ভবলকে তবু মেটাফর বলা চলে না, এর স্থান মেটাফরের উপরে, হয়ত এনালজি বলা যায়।
 +
 +সক্রেটিস: আচ্ছা মানলাম। অন্য অব্জার্ভেশনটা এই রকম। তোমার অব্জার্ভেবল ইউনিভার্সের ম্যাপ দেখে আমার মনে হচ্ছে নিজেকে কখনো দেখা যায় না, বর্তমান দেখা যায় না, দেখা যায় শুধু অন্যকে, দেখা যায় শুধু অতীত। নিজেকে যদি দেখাই না যায়, নিজেকে জানা কি সম্ভব? আমার কথা নিয়েই আমার সন্দেহ হচ্ছে এখন।
 +
 +রবি: অতীত দেখে যদি আমরা বর্তমান সম্পর্কে জানতে পারি, অন্যকে দেখে দেখার মাধ্যমে কি নিজেকে জানতে পারব না?
 ===== - টাইমলাইন ===== ===== - টাইমলাইন =====
 +সক্রেটিস: অতীতের টাইমলাইন আছে বলেই আমরা ইউনিভার্সের বর্তমান ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। সমাজের ক্ষেত্রেও অতীত ছাড়া বর্তমান বুঝা সম্ভব না। মানুষের ক্ষেত্রে অন্যকে দেখে নিজেকে জানা সম্ভব কি না তা নিয়ে অবশ্য আমার ডাউট আছে। তবে সে যাই হোক, আমার মনে হয় এই সুযোগে তোমাদেরকে আমার বানানো টাইমলাইনটা দেখিয়ে ফেলতে পারি।
 +
 <html><iframe src='https://cdn.knightlab.com/libs/timeline3/latest/embed/index.html?source=1j2ZU6TEkcz8jwc3p_Yi1kVtfULD2aARnt66QtzBGAAs&font=Default&lang=en&initial_zoom=2&height=750' width='100%' height='750' webkitallowfullscreen mozallowfullscreen allowfullscreen frameborder='0'></iframe></html> <html><iframe src='https://cdn.knightlab.com/libs/timeline3/latest/embed/index.html?source=1j2ZU6TEkcz8jwc3p_Yi1kVtfULD2aARnt66QtzBGAAs&font=Default&lang=en&initial_zoom=2&height=750' width='100%' height='750' webkitallowfullscreen mozallowfullscreen allowfullscreen frameborder='0'></iframe></html>
  
 +[[https://cdn.knightlab.com/libs/timeline3/latest/embed/index.html?source=1j2ZU6TEkcz8jwc3p_Yi1kVtfULD2aARnt66QtzBGAAs&font=Default&lang=en&initial_zoom=2|এই টাইমলাইনে]] ইউনিভার্সের প্রতি যুগ থেকে সাতটা করে ইভেন্ট রাখা হয়েছে। তাহলে মোট ইভেন্ট আছে ৪৯টা। প্রতি ইভেন্টের জন্য একটা করে স্লাইড রাখা হয়েছে, আর স্লাইডের নিচে আছে একটা নেভিগেশন, যা জুম ইন ও আউট করা যায় এবং ডানে বামে প্যান করা যায়। আমাদের মেডিটেশনের জন্য এটা কাজে লাগবে। টাইমলাইন ব্রাউজ করা হতে পারে একটা চিকন দড়ির উপর দিয়ে ইউনিভার্সের ইতিহাসের দিকে হেঁটে যাওয়ার একটা ধ্যান। আমার মনে হয় রবি থেকে শুরু করে আবার সবাই যদি যার যার যুগের সাতটা ইভেন্ট দেখে কিছু মন্তব্য করো, তাহলে আমাদের সবার জন্যই ভালো হবে। রবি?
 +
 +রবি: হ্যাঁ, অবশ্যই। শুরুতে আমাকে আবারো বলতেই হবে, ম্যাথ ছাড়া এইভাবে ইতিহাস চর্চা আমার জন্য সম্মানজনক না। তবু পড়ছি। পার্টিকেল যুগের প্রথম ইভেন্ট অবশ্যই বিগব্যাং, যার মাধ্যমে আনুমানিক চৌদ্দ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের ইউনিভার্সের জন্ম হয়েছে। জন্মের পর থেকে ইউনিভার্স প্রসারিত হচ্ছে, কখনো জোরে, কখনো আস্তে। বিগব্যাঙের সাথেসাথেই ইনফ্লেশন নামে একটা ঘটনায় ইউনিভার্স হঠাৎ করে অনেক প্রসারিত হয়েছিল। এর পর এক সেকেন্ডের এক ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগের মধ্যে সব ফোর্সের জন্ম হয়েছে। প্রথম সেকেন্ডের মধ্যে এসেছে সব এলিমেন্টারি পার্টিকেল, কোয়ার্ক, ইলেক্ট্রন, প্রোটন, ইত্যাদি। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে একাধিক প্রোটন জড়ো হয়ে হিলিয়ামের মতো এলিমেন্টের নিউক্লিয়াস তৈরি হয়েছে। প্রথমে ম্যাটারের চেয়ে এনার্জির ঘনত্ব বেশি ছিল। বিগব্যাঙের পঞ্চাশ হাজার বছর পর এনার্জিকে হারিয়ে ম্যাটারের ডেন্সিটি বেড়ে যায়। আর তিন লাখ বছরের মাথায় প্রোটনের নিউক্লিয়াসের সাথে ইলেক্ট্রন মিলে এটম তৈরি করে, এবং ফোটনরা ফ্রি ইলেক্ট্রনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পায়। এই সব ফ্রি ফোটন আমরা এখনো অব্জার্ভ করতে পারি মাইক্রোওয়েভ হিসেবে। এদের মাধ্যমেই আমরা তৈরি করেছি ইউনিভার্সের প্রথম ছবি। এখানেই পার্টিকেল যুগ শেষ। শশী?
 +
 +শশী: টাইমলাইনে গ্যালাক্টিক যুগের সাতটা ইভেন্ট দেখলাম। কাহিনিটা এই রকম। পার্টিকেল যুগের শেষে ইউনিভার্স মানে ছিল একটা একক গ্যাস, যার সব জায়গায় ডেন্সিটি প্রায় সমান, তবে কিছুটা ভেরিয়েশন আছে। যেখানে ডেন্সিটি একটু বেশি, ডার্ক এইজে সেই সব জায়গা ডার্ক ম্যাটারের প্রভাবে আরো ডেন্স হতে থাকে। বিগব্যাঙের একশ মিলিয়ন বছর পর ডার্ক এইজ শেষ হয়, আরো দুইশ মিলিয়ন বছর পর ওভারডেন্সিটির জায়গাগুলিতে গ্যাসের জমায়েত থেকে গ্যালাক্সি ও তারার জন্ম শুরু হয়; এর নাম কসমিক ডন। প্রথম ছয়শ মিলিয়ন বছরের মধ্যে ইন্টারগ্যালাক্টিক মিডিয়াম তৈরি হয়, আর আটশ মিলিয়ন বছরের মধ্যে জন্মায় আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে। বিগব্যাঙের এক বিলিয়ন বছর পর ইউনিভার্স গ্যালাক্সিতে ভরে যায় এবং আড়াই বিলিয়ন বছরের মধ্যেই কোয়েজার অর্থাৎ সবচেয়ে ম্যাসিভ ও এক্টিভ গ্যালাক্সিদের জন্ম হয়। বিগব্যাঙের তিন বিলিয়ন বছর পর গ্যালাক্সিদের ক্লাস্টার যখন ফর্ম করে তখনি গ্যালাক্টিক যুগ শেষ। মার্স?
 +
 +মার্স: স্টেলার যুগের শুরু ধরা হয়েছে ১০.৪ বিলিয়ন বছর আগে, মানে বিগব্যাঙের সাড়ে তিন বিলিয়ন বছর পর। তখন ইউনিভার্সের গ্যালাক্সিদের ভিতরে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তারা তৈরি হচ্ছিল। আজ থেকে দশ বিলিয়ন বছর আগে পপুলেশন একের তারাদের জন্ম, যারা তরুণ, মেটাল-রিচ, এবং গ্যালাক্সির ডিস্কে থাকে। নয় বিলিয়ন বছর আগে তারাদের অনেক ক্লাস্টার তৈরি হয় এবং আমাদের গ্যালাক্সি তার থিন ডিস্ক পায়। এর এক বিলিয়ন বছর পর গ্যালাক্সিদের সুপারক্লাস্টার গঠনের কারণে মহাবিশ্বে অনেক ভয়েড তৈরি হয়। ছয় বিলিয়ন বছর আগে এট্রাক্টিভ গ্র্যাভিটির বিরুদ্ধে রিপালসিভ ডার্ক এনার্জির জয় হয়, এই কারণে ইউনিভার্সের প্রসারণের স্পিড বাড়তে শুরু করে। সাড়ে পাঁচশ কোটি বছর আগে মিল্কিওয়ে স্পাইরাল শেইপ পায়, আর ৪৬০ কোটি বছর আগে আমাদের সোলার সিস্টেমের জন্মের মাধ্যমে শেষ হয় স্টেলার যুগ। হার্মিস?
 +
 +হার্মিস: প্ল্যানেটারি যুগের প্রথম ইম্পর্টেন্ট ঘটনা সাড়ে ৪৫৫ কোটি বছর আগে ইনার (সূর্যের কাছের) প্ল্যানেটদের জন্ম। এর পাঁচ কোটি বছর পর সূর্য মেইন সিকোয়েন্স, অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ তারার মর্যাদা পায়। আনুমানিক ৪৪০ কোটি বছর আগে গরম পৃথিবী ঠাণ্ডা হয় এবং সমুদ্রের জন্ম হয়। কিন্তু তার পর প্রায় ত্রিশ কোটি বছর ধরে পৃথিবীর উপর চলে স্পেস থেকে আসা পাথরের বিশাল বম্বার্ডমেন্ট। এই দুর্যোগের শেষেই গঠিত হয় কন্টিনেন্টাল ক্রাস্ট যারা এখনো নড়ছে, এখনো মহাদেশের রূপ পাল্টাচ্ছে। আজ থেকে ৩৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সব মহাদেশ একসাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করেছিল ভালবারা সুপারকন্টিনেন্ট। এখানেই এই যুগ শেষ। জুনো?
 +
 +জুনো: সক্রেটিস, তুমি কেমিকেল যুগ শুরু করেছ ৩.৬ বিলিয়ন বছর আগে, যখন সমুদ্রের তলায় হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের মধ্যে সম্ভবত প্রথম জড় পদার্থ থেকে জৈব প্রাণ তৈরি হয়েছিল। জীবের প্রথম ফসিল পাওয়া যায় সাড়ে তিন বিলিয়ন বছর আগের। প্রথম সফল জীব ব্যাক্টেরিয়া সাগর ছেড়ে মাটিতে এসেছিল প্রায় তিন বিলিয়ন বছর আগে। তার একশ মিলিয়ন বছর পর থেকে সমুদ্রে বিপুল পরিমাণ সায়ানোব্যাক্টেরিয়া ফটোসিন্থেসিসের মাধ্যমে পৃথিবীর এটমস্ফিয়ারে অক্সিজেন ছাড়তে শুরু করে। কোষের মধ্যে নিউক্লিয়াস বানিয়ে প্রথম ইউক্যারিয়ট আসে ২.৭ বিলিয়ন বছর আগে। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক বাড়ে আড়াই বিলিয়ন বছর আগে, যার তিনশ মিলিয়ন বছর পর ওজোন লেয়ার তৈরি হয়। ওজোন দিয়েই শেষ হয় কেমিকেল যুগ। ইশ্তার?
 +
 +ইশ্তার: বায়োলজিকেল যুগে জীবের বৈচিত্র্য বাড়তে শুরু করে। দেড় বিলিয়ন বছর আগে প্রথম জটিল কোষ তৈরি হয়। অনেক কোষ একসাথে হয়ে বহুকোষী জীবের বিপ্লব আনে ৬০০ মিলিয়ন বছর আগে। তার দুইশ মিলিয়ন বছর পর পানি থেকে জমিনে উঠে আসে প্রাণীরা। দুইশ মিলিয়ন বছর আগে গরম রক্তের প্রাণীদের জন্ম, আর ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে এস্টারয়েডের আঘাতে ডাইনসোরদের বিলুপ্তির মাধ্যমে শেষ হয় এই যুগ। রিয়া?
 +
 +রিয়া: আনুমানিক ৭ মিলিয়ন বছর আগে প্রথম হোমিনাইনদের জন্মের মাধ্যমে শুরু হয়েছে কালচারাল যুগ। অস্ট্রালোপিথেকাস ও হোমো জেনাসের প্রাণীরা পৃথিবীতে এসেছে ৪ থেকে ১ মিলিয়ন বছর আগে। আর প্রথম আধুনিক মানুষ পৃথিবীতে হেঁটেছে সম্ভবত তিন লাখ বছর আগে আফ্রিকায়। আফ্রিকা থেকে মানুষ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এক লাখ বছর আগে। পঞ্চাশ হাজার বছর আগে ধর্ম, মিউজিক ও আর্টে এক বিশাল বিপ্লব শুরু করে মানুষরা। কৃষিকাজ শুরু হয় দশ হাজার বছর আগে, যার পাঁচ হাজার বছর পর আসে প্রথম রাষ্ট্র। পাঁচশ বছর আগে শুরু হয় গ্লোবালাইজেশন, যার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে দুইশ বছর আগে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভলুশনের মাধ্যমে। এখানেই শেষ কালচারাল যুগ।
 +
 +সক্রেটিস: প্রত্যেকের মুখে শোনা আসলেই খুব দরকার ছিল। বুঝতেই পারছ, আমি ইউনিভার্সের সব জায়গার ইতিহাস বলছি না, বলছি আসলে মানুষের ইতিহাস। ইউনিভার্স এখানে মানুষের ইতিহাসের অংশ হিসেবে এসেছে। এই কারণেই গ্যালাক্টিক যুগে মিল্কিওয়ের কথা বলা হয়েছে, স্টেলার যুগে প্রধানত মিল্কিওয়ের তারাদের উপর ফোকাস করা হয়েছে, প্ল্যানেটারি যুগের মূল বিষয় সোলার সিস্টেম, আর কেমিকেল ও বায়োলজিকেল যুগের বিষয় পৃথিবীর বায়োস্ফিয়ার, আর কালচারাল যুগের বিষয় শুধু মানুষের কালচার। এটা আমাদের ইতিহাস, আমাদের ধ্যানের বিষয়।
bn/courses/ast100/0.1728133113.txt.gz · Last modified: 2024/10/05 06:58 by asad

Donate Powered by PHP Valid HTML5 Valid CSS Driven by DokuWiki