Abekta

Nothing human is alien to me

User Tools

Site Tools


Differences

This shows you the differences between two versions of the page.

Link to this comparison view

mu:groei:2 [2024/10/17 11:59] – created asadmu:groei:2 [2024/10/17 12:16] (current) asad
Line 1: Line 1:
 ====== ২. কৃষি ও ক্যালেন্ডার ====== ====== ২. কৃষি ও ক্যালেন্ডার ======
  
-বর্বর অবস্থায় বসবাসকারী অসংখ্য গোষ্ঠীর মধ্যে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ১০০০ সালের মধ্যে চীন, ভারত, মেসোপটেমিয়া, ও মিশরের উর্বর সমতলভূমিতে বড় বড় রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। তারা উচ্চতর সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করত, যার লিখিত রেকর্ড পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। আগের স্বাধীন কৃষক সম্প্রদায় ও শহরগুলি তাদের নিজস্ব নেতা ও নাগরিক রাজা, স্থানীয় দেবতা ও পূজার পদ্ধতি নিয়ে আরো বড় পলিটিকেল ইউনিটে যোগ দিচ্ছিল। বন্যাক্রান্ত উর্বর পলি মাটির অস্বাভাবিক উর্বরতা যে পরিমাণ উদ্বৃত্ত ফসল দিত তা হয়ে উঠেছিল একটি আলাদা শাসক ও কর্মচারী শ্রেণীর জীবিকা। এই সংগঠন প্রথমে তৈরি হয়েছিল পানির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থেকে। এই সব সমভূমিতে সেচ দেয়া বড় নদীগুলি (যেমন, নীল নদ, ইউফ্রেটিস, হুয়াং হো) তাদের বেড পলিতে পূর্ণ করত, কিছু নির্দিষ্ট মাসে আশপাশের খেত প্লাবিত করে তাদের ধ্বংস করত বা উর্বত করত, বা কখনও কখনও সিল্ট দিয়ে নতুন বেড বানাত। পানি সব সময় এক দিকে চালাতে হত, ডাইক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হত, গভীরতা বাড়িয়ে বা খাল খনন করে। এমন নিয়ন্ত্রণ জেলা পর্যায়ে ছেড়ে দেয়া সম্ভব ছিল না কারণ এক জেলার স্বার্থ ছিল আরেক জেলার সাথে সাংঘর্ষিক। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন ছিল, কারণ শুধুমাত্র একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষই নিশ্চিত করতে পারে যে স্থানীয় স্বার্থ সাধারণ স্বার্থের উপর প্রাধান্য বিস্তার করবে না। কেবল তখনই উর্বরতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু যখন দেশ ছোট ছোট যুদ্ধবাজ রাজ্যে ভেঙে পড়ে আর বাঁধ ও খালগুলি অবহেলিত হয়, তখন মাটি শুকিয়ে যায় বা প্লাবিত হয়, মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে: তখন জমির উপর আছড়ে পড়ে।+বর্বর অবস্থায় বসবাসকারী অসংখ্য গোষ্ঠীর মধ্যে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ১০০০ সালের মধ্যে চীন, ভারত, মেসোপটেমিয়া, ও মিশরের উর্বর সমতলভূমিতে বড় বড় রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। তারা উচ্চতর সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করত, যার লিখিত রেকর্ড পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। আগের স্বাধীন কৃষক সম্প্রদায় ও শহরগুলি তাদের নিজস্ব নেতা ও নাগরিক রাজা, স্থানীয় দেবতা ও পূজার পদ্ধতি নিয়ে আরো বড় পলিটিকেল ইউনিটে যোগ দিচ্ছিল। বন্যাক্রান্ত উর্বর পলি মাটির অস্বাভাবিক উর্বরতা যে পরিমাণ উদ্বৃত্ত ফসল দিত তা হয়ে উঠেছিল একটি আলাদা শাসক ও কর্মচারী শ্রেণীর জীবিকা। এই সংগঠন প্রথমে তৈরি হয়েছিল পানির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থেকে। এই সব সমভূমিতে সেচ দেয়া বড় নদীগুলি (যেমন, নীল নদ, ইউফ্রেটিস, হুয়াং হো) তাদের বেড পলিতে পূর্ণ করত, কিছু নির্দিষ্ট মাসে আশপাশের খেত প্লাবিত করে তাদের ধ্বংস করত বা উর্বত করত, বা কখনও কখনও সিল্ট দিয়ে নতুন বেড বানাত। পানি সব সময় এক দিকে চালাতে হত, ডাইক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হত, গভীরতা বাড়িয়ে বা খাল খনন করে। এমন নিয়ন্ত্রণ জেলা পর্যায়ে ছেড়ে দেয়া সম্ভব ছিল না কারণ এক জেলার স্বার্থ ছিল আরেক জেলার সাথে সাংঘর্ষিক। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন ছিল, কারণ শুধুমাত্র একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষই নিশ্চিত করতে পারে যে স্থানীয় স্বার্থ সাধারণ স্বার্থের উপর প্রাধান্য বিস্তার করবে না। কেবল তখনই উর্বরতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু যখন দেশ ছোট ছোট যুদ্ধবাজ রাজ্যে ভেঙে পড়ে আর বাঁধ ও খালগুলি অবহেলিত হয়, তখন মাটি শুকিয়ে যায় বা প্লাবিত হয়, মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে: তখন জমির উপর আছড়ে পড়ে দেবতাদের ক্রোধ
  
 একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শক্তি প্রয়োজন ছিল, দ্বিতীয়ত, উর্বর সমভূমিকে পার্শ্ববর্তী পাহাড় বা মরুভূমির যোদ্ধা জাতিদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য। এই যোদ্ধারা তাদের নিজস্ব জমি থেকে ভালো জীবিকা পেত না, তাই লুণ্ঠন ও সমৃদ্ধ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কর আদায়কেই তাদের ব্যবসা করে তুলেছিল। কর্মের একটি বিভাজন প্রয়োজন ছিল; একটা ক্ষত্রিয় বর্ণ গড়ে উঠেছিল যারা তাদের প্রধানকে রাজা বানিয়ে কৃষকদের উদ্বৃত্ত পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী শাসক শ্রেণী হয়ে ওঠে। অথবা যাযাবর প্রতিবেশীরা লুণ্ঠনকারী থেকে বিজয়ীতে পরিণত হয়ে কৃষকদের মধ্যেই শাসক অভিজাত হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করত, তাদেরকে অন্য হানাদারদের থেকে রক্ষা করত। উভয় ক্ষেত্রে ফলাফল ছিল একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র। একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শক্তি প্রয়োজন ছিল, দ্বিতীয়ত, উর্বর সমভূমিকে পার্শ্ববর্তী পাহাড় বা মরুভূমির যোদ্ধা জাতিদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য। এই যোদ্ধারা তাদের নিজস্ব জমি থেকে ভালো জীবিকা পেত না, তাই লুণ্ঠন ও সমৃদ্ধ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কর আদায়কেই তাদের ব্যবসা করে তুলেছিল। কর্মের একটি বিভাজন প্রয়োজন ছিল; একটা ক্ষত্রিয় বর্ণ গড়ে উঠেছিল যারা তাদের প্রধানকে রাজা বানিয়ে কৃষকদের উদ্বৃত্ত পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী শাসক শ্রেণী হয়ে ওঠে। অথবা যাযাবর প্রতিবেশীরা লুণ্ঠনকারী থেকে বিজয়ীতে পরিণত হয়ে কৃষকদের মধ্যেই শাসক অভিজাত হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করত, তাদেরকে অন্য হানাদারদের থেকে রক্ষা করত। উভয় ক্ষেত্রে ফলাফল ছিল একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র।
mu/groei/2.1729187941.txt.gz · Last modified: 2024/10/17 11:59 by asad

Donate Powered by PHP Valid HTML5 Valid CSS Driven by DokuWiki