bn:multiverse:de-rerum-natura:i
Differences
This shows you the differences between two versions of the page.
| Both sides previous revisionPrevious revision | |||
| bn:multiverse:de-rerum-natura:i [2023/04/20 03:48] – asad | bn:multiverse:de-rerum-natura:i [2023/04/21 15:21] (current) – external edit 127.0.0.1 | ||
|---|---|---|---|
| Line 2: | Line 2: | ||
| ===== ভিনাস বন্দনা ===== | ===== ভিনাস বন্দনা ===== | ||
| - | < | + | <poem>< |
| - | বিপুলা ভিনাস, | + | বিপুলা |
| আড়ালে থেকে নিজেকে উজার করো জাহাজ-ভরা সমুদ্রে, | আড়ালে থেকে নিজেকে উজার করো জাহাজ-ভরা সমুদ্রে, | ||
| ফসল-ফলানো পৃথিবীতে, | ফসল-ফলানো পৃথিবীতে, | ||
| Line 28: | Line 28: | ||
| সুখী আর সুন্দর কিছু, | সুখী আর সুন্দর কিছু, | ||
| আমার এ কবিতার সঙ্গী হিসাবে, | আমার এ কবিতার সঙ্গী হিসাবে, | ||
| - | বিষয়ে যা লিখতেছি আমি আমার বন্ধু মেম্মিউসের | + | বিষয়ে যা লিখতেছি আমি আমার বন্ধু |
| জন্য, | জন্য, | ||
| সব কাজে। অতএব আরো বেশি করে, দেবী, | সব কাজে। অতএব আরো বেশি করে, দেবী, | ||
| Line 36: | Line 36: | ||
| কারণ কেবল তুমি মানুষকে পারো খুশি করতে নীরব | কারণ কেবল তুমি মানুষকে পারো খুশি করতে নীরব | ||
| শান্তি দিয়ে, | শান্তি দিয়ে, | ||
| - | যুদ্ধোন্মাদ নেতা মার্স মাঝেমধ্যেই তোমার প্রেমের | + | যুদ্ধোন্মাদ নেতা |
| অনির্বাণ আগুনে পরাস্ত হয়ে ঢলে পড়ে তোমারই | অনির্বাণ আগুনে পরাস্ত হয়ে ঢলে পড়ে তোমারই | ||
| কোলে এবং সুঠাম ঘাড় পিছনে এলায়ে হাঁ করে তোমার | কোলে এবং সুঠাম ঘাড় পিছনে এলায়ে হাঁ করে তোমার | ||
| Line 63: | Line 63: | ||
| ব্যাকুলতায় বানানো আমার এ উপহার বুঝার আগেই | ব্যাকুলতায় বানানো আমার এ উপহার বুঝার আগেই | ||
| তাচ্ছিল্যের সাথে ফেলে না দাও। কারণ তোমার জন্য | তাচ্ছিল্যের সাথে ফেলে না দাও। কারণ তোমার জন্য | ||
| - | আমি এখন বলব দেবতা ও স্বর্গের সবচেয়ে উঁচা | + | আমি এখন বলব দেবতা ও স্বর্গের সবচেয়ে উঁচু |
| - | জগতের কথা, বলব সবকিছুর আদি | + | জগতের কথা, বলব সবার আদিম উপাদানের কথা, |
| যার থেকে প্রকৃতি সব জিনিস বানায়, | যার থেকে প্রকৃতি সব জিনিস বানায়, | ||
| লালন করে, এবং যার মাঝে বিলয়ের পরে সবকিছু | লালন করে, এবং যার মাঝে বিলয়ের পরে সবকিছু | ||
| Line 75: | Line 75: | ||
| ধর্মের ভয়ানক ভারে---যে স্বর্গ থেকে মাথা বের করে | ধর্মের ভয়ানক ভারে---যে স্বর্গ থেকে মাথা বের করে | ||
| নশ্বর মানুষের দিকে তাকাত ভয়ংকর মুখ করে--- | নশ্বর মানুষের দিকে তাকাত ভয়ংকর মুখ করে--- | ||
| - | তখন প্রথম এক গ্রিক তার দিকে নশ্বর চোখ তুলে | + | তখন প্রথম |
| তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াইছিল, | তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াইছিল, | ||
| পৌরাণিক কাহিনি বা বিদ্যুৎ বা বজ্রের হুঙ্কার | পৌরাণিক কাহিনি বা বিদ্যুৎ বা বজ্রের হুঙ্কার | ||
| - | কিচ্ছু তাকে দমাইতে পারে নাই, উল্টা তার আত্মার | + | কিচ্ছু তাঁকে দমাইতে পারে নাই, উল্টা তাঁর আত্মার |
| নির্ভীক উৎসাহ আরো উস্কে দিছিল, | নির্ভীক উৎসাহ আরো উস্কে দিছিল, | ||
| মানুষের মধ্যে প্রথম ভাঙছিলেন দুনিয়ার বন্ধ | মানুষের মধ্যে প্রথম ভাঙছিলেন দুনিয়ার বন্ধ | ||
| - | দুয়ারের অর্গল। | + | দুয়ারের অর্গল। এইভাবে জিতছিল তাঁর চেতনার |
| সতেজ শক্তি, | সতেজ শক্তি, | ||
| প্রজ্জ্বলিত প্রাচীর, | প্রজ্জ্বলিত প্রাচীর, | ||
| - | করছিলেন অসীম অমিত সমগ্রের আনাচে কানাচে, | + | করছিলেন অসীম অমিত |
| জয় শেষে ফিরে এসে পুরস্কার হিসাবে জানাইছিলেন | জয় শেষে ফিরে এসে পুরস্কার হিসাবে জানাইছিলেন | ||
| কোন জিনিস অস্তিত্ব নিতে পারে কোন জিনিস পারে না, | কোন জিনিস অস্তিত্ব নিতে পারে কোন জিনিস পারে না, | ||
| এক কথায় কিভাবে সব জিনিসের শক্তি সীমাবদ্ধ | এক কথায় কিভাবে সব জিনিসের শক্তি সীমাবদ্ধ | ||
| সুগভীর সনাতন সীমান্তরেখা দিয়ে। অতএব আজ | সুগভীর সনাতন সীমান্তরেখা দিয়ে। অতএব আজ | ||
| - | উল্টা | + | উল্টা |
| আমাদের নিয়ে গেছে স্বর্গের সমতলে। | আমাদের নিয়ে গেছে স্বর্গের সমতলে। | ||
| + | < | ||
| + | তুমি হয়ত ভাববা দর্শন পাঠ পাপ আর এই পথে | ||
| + | চলে আমরা যাচ্ছি অপরাধ জগতে। হতেই পারে না, | ||
| + | বরং কুসংস্কার তৈরি করছে বেশি অপরাধ পাপ: | ||
| + | ভেবে দেখো, | ||
| + | রক্ত দিয়ে কিভাবে কলুষিত করছিল গ্রিক জনতার | ||
| + | নির্বাচিত নেতারা। কুমারী চুলে যখন বাঁধা হইছিল | ||
| + | দুই গাল ছুঁয়ে গড়ায়ে পড়া সমান দৈর্ঘের দুই ফিতা, | ||
| + | যখনি সে দেখছিল বেদির সামনে তার পিতার করুণ | ||
| + | মুখ, পাশে ধার ছুরি আড়াল করে দাঁড়ানো সব পুরোহিত | ||
| + | আর সম্মুখে তাকে দেখে অশ্রু ঝরানো হাজার মানুষ | ||
| + | তক্ষুনি বোবা আতঙ্কে দুই হাঁটু গেড়ে ঢলে পড়ছিল | ||
| + | মাটিতে। তখন অভাগিনীর এটা কোনো কাজে আসে নাই যে | ||
| + | রাজাকে প্রথম বাবা নামটা সে-ই দিছিল; | ||
| + | থরথর কম্পিত মেয়েটাকে তুলে নিয়ে গেছিল বেদিতে, | ||
| + | পবিত্র ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে হাইমেনের গীত | ||
| + | কেউ গায় নাই, বরং বিয়ের বয়সী এক পরিষ্কার | ||
| + | কুমারীকে কুরবানি করা হইছিল খুব কদর্যভাবে | ||
| + | নিজের বাবার হাত দিয়ে, | ||
| + | জন্য ট্রয়ের দিকে অনুকূল বাতাস বহে। কুসংস্কার | ||
| + | এমনই অশুভের দিকে নিয়ে যেতে পারে। | ||
| + | < | ||
| + | একদিন আমাদের ছেড়ে চলে যাবা পুরোহিতদের ভয়ে | ||
| + | ভরা নসিহত শুনে। আরে ওরা এক্ষুনি এমন অনেক | ||
| + | স্বপ্ন বানায়ে দিতে পারবে যাতে তোমার জীবনের ছক | ||
| + | ছত্রভঙ্গ হয়, ভাগ্যের জায়গা দখল করে ভয়। | ||
| + | পারবে নাই বা কেন! মানুষ যদি জানত সব কষ্টের | ||
| + | সীমা আছে তাহলে যাজকদের কুসংস্কার বা হুঙ্কার | ||
| + | পরোয়া না করার শক্তি পেত, কিন্তু বাস্তবতা হল | ||
| + | প্রতিরোধের ক্ষমতা কারোই নাই, কারণ আছে পরকালে | ||
| + | অনন্ত শাস্তির শঙ্কা। কারণ মানুষের অজ্ঞতা | ||
| + | আছে আত্মার প্রকৃতি নিয়ে, | ||
| + | জন্মায় নাকি জন্মের সময় বাইরে থেকে দেহে ঢুকে, | ||
| + | মৃত্যুর মাধ্যমে দেহ ভেঙে গেলে নাই হয়ে যায় নাকি | ||
| + | অর্কুসের অন্ধকারে গহীন গুহায় ঘুরাঘুরি করে | ||
| + | নাকি দৈবের বশে প্রবেশ করে অন্য প্রাণীদের দেহে, | ||
| + | যেমন গেয়ে গেছেন আমাদের < | ||
| + | মনোরম হেলিকন থেকে চিরহরিৎ পাতার মালা এনে | ||
| + | গৌরব কুড়াইছিলেন ইতালির সব গোষ্ঠীর কাছে, | ||
| + | অথচ এই তিনিই অমর গানে গেলেন বলে, আছে নাকি | ||
| + | < | ||
| + | আমাদের আত্মা বা দেহ, তবে পারে তাদের মতো দেখতে | ||
| + | অদ্ভুত পাণ্ডুর কিছু জিনিস, | ||
| + | নাকি অবিনশ্বর হোমারের ছায়া জেগে নোনতা অশ্রু | ||
| + | ঝরাতে ঝরাতে তার কাছে প্রকাশ করতে শুরু করছিল | ||
| + | বিশ্বের প্রকৃতি। | ||
| + | < | ||
| + | ফুটায়ে তুলতে হবে গগনের গতিবিধি, | ||
| + | আর চাঁদ ঘুরে, | ||
| + | কাজ করে, তবে সবচেয়ে বেশি দরকার সূক্ষ্ম যুক্তি | ||
| + | দিয়ে যাচাই করা আত্মা কি দিয়ে তৈরি, | ||
| + | কেমন, | ||
| + | মনকে আতঙ্কিত করে, গভীর ঘুমের সময় এমন | ||
| + | ভাবে ভর করে যে মনে হয় এমন কাউকে দেখতেছি বা | ||
| + | শুনতেছি যে আসলে মারা গেছে বহু আগে, যার হাড়গোড় | ||
| + | চুরমার হয়ে গেছে ভূমির আলিঙ্গনে। | ||
| + | < | ||
| + | গ্রিকদের নিগূঢ় আবিষ্কার লাতিন কবিতায় প্রকাশ | ||
| + | করা অনেক কঠিন, | ||
| + | বানাতে হয় অনেক, | ||
| + | এবং বিষয়টাও নতুন, | ||
| + | বন্ধুত্বের আসন্ন আনন্দ আমাকে রাজি করাল | ||
| + | এ পরিশ্রম মানতে, | ||
| + | খুঁজতে সেই সব শব্দ আর কাব্য যা দিয়ে অবশেষে | ||
| + | তোমার মনে জ্বালতে পারব পরিষ্কার আলো যাতে তুমি | ||
| + | বস্তুর অন্তর দেখতে পারো। | ||
| </ | </ | ||
| + | |||
| + | ===== প্রথম সূত্র ===== | ||
| + | < | ||
| + | < | ||
| + | আর এই কুহেলিকা দূর করতেই হবে, তবে সূর্যের | ||
| + | কিরণ বা দিনের উজ্জ্বল রশ্মি দিয়ে না, প্রকৃতির | ||
| + | স্বরূপ আর সূত্র দিয়ে। এবং প্রথম সূত্র আমরা | ||
| + | নিব এই | ||
| + | **বলে কখনোই কোনকিছু তৈরি হয় না**। একটা বিশাল | ||
| + | আতঙ্কের আঁচলে সব মানুষ আটক, কারণ স্বর্গে | ||
| + | মর্তে তারা এমন অনেক কিছু ঘটতে দেখে যার কোনো | ||
| + | কারণ দেখতে পায় না এবং তাই ভেবে বসে সেই সব | ||
| + | ঘটতেছে দৈবের শক্তিতে। অতএব আমরা যখন | ||
| + | দেখব শূন্য থেকে কিছু বানানো যায় না তখন অনেক | ||
| + | সঠিকভাবে চিনতে পারব সেই উৎস যার মাধ্যমে | ||
| + | সব জিনিস বানানো যায় এবং বুঝতে পারব কিভাবে | ||
| + | দেবতাদের প্রভাব ছাড়া সবকিছু ঘটে। | ||
| + | < | ||
| + | থেকে কিছু জন্মাতে পারলে সবকিছু থেকেই সবকিছু | ||
| + | তৈরি করা যাইত, | ||
| + | সাগর থেকে মানুষ, | ||
| + | আকাশে বাচ্চা হতো পাখির; | ||
| + | ধরনের বন্য জন্তু দিয়ে সমানভাবে ভরে যাইত | ||
| + | মরুভূমি ও আবাদি জমি, কারো জন্মের ঠিক থাকত না। | ||
| + | তাছাড়া একই গাছ সব সময় একই ফল ফলাত না, | ||
| + | একেক বার একেক ফল দিত, সব গাছে সব ফল পাওয়া | ||
| + | যেত। প্রত্যেক জাত তৈরির আলাদা বীজ যদি নাই থাকে | ||
| + | তবে সবার অপরিবর্তনীয় ধ্রুব মাতা কেমনে থাকে? | ||
| + | তাই আসলে যেহেতু সবাই নির্ধারিত বীজ থেকে আসে | ||
| + | সেহেতু যা কিছু জন্ম নিয়ে এই আলোর সৈকতে ভাসে | ||
| + | তাদের সবার উৎসের মাঝেই নিহিত আছে নিশ্চিত | ||
| + | তাদের মৌলিক পদার্থ, | ||
| + | সবকিছু থেকে সবকিছু জন্মায় না কারণ প্রত্যেক | ||
| + | বস্তুর ভিতরে আছে অনন্য ক্ষমতা। | ||
| + | < | ||
| + | কেন শুধু | ||
| + | শরতের ষড়যন্ত্রে যদি না তাদের নির্ধারিত বীজ | ||
| + | নির্দিষ্ট সময়ে একত্রিত হলেই কেবল নতুন | ||
| + | সৃষ্টি উন্মোচিত হয়, বা যদি উপযুক্ত ঋতু ও সজীব | ||
| + | পৃথিবী নতুন ও নরম বাচ্চাগুলাকে আলোর বেলায় | ||
| + | নিরাপদে নিয়ে না আসে? শূন্য থেকে যদি এরা জন্মাতে | ||
| + | পারত তবে তো চলে আসত হঠাৎ একেক বার একেক | ||
| + | সময় বা বছরের প্রতিকূল ঋতুতে; | ||
| + | এমন কোনো আদিম বীজ থাকত না যাকে প্রতিকূল ঋতু | ||
| + | সৃজনশীল মিলন থেকে ফিরাইতে পারে। | ||
| + | < | ||
| + | লাগত না কারো বড় হতে বা নিজের বীজ জমাইতে যদি | ||
| + | শূন্য থেকে বৃদ্ধি সম্ভব হতো; কারণ তখন কচি বাচ্চা | ||
| + | চোখের নিমিখে হয়ে যেত যুবতী, | ||
| + | ফুস করে ফুঁড়ে উঠে যেত বিরাট বৃক্ষ। তবে নিশ্চয়ই | ||
| + | এসব কিছুই ঘটে না বরং সবকিছু ধীরে ধীরে বাড়ে | ||
| + | নির্ধারিত বীজ থেকে ও বাড়ার সময় যার যার জাত | ||
| + | সংরক্ষণ করে; তাই বুঝতেই পারতেছ প্রত্যেকে | ||
| + | বড় হয় এবং পুষ্টি পায় তার নিজের মানানসই | ||
| + | কাঁচামাল থেকে। | ||
| + | < | ||
| + | কাল না আসলে এই পৃথিবী তার মজার ফলের বাহার | ||
| + | আনতে পারে না, আর খেতে না পারলে কোনো প্রাণী সন্তান | ||
| + | জন্ম দিয়ে বংশ রক্ষা করতে পারত না; সুতরাং | ||
| + | সহজেই বিশ্বাস করা যায় যে সকল কিছুর মধ্যে | ||
| + | কমন কিছু মৌল পদার্থ আছে ঠিক যেমন অনেক | ||
| + | শব্দের মধ্যে কমন কিছু অক্ষর থাকে, | ||
| + | কিছুতেই বিশ্বাস কইরো না যে আদিম উপাদান ছাড়া | ||
| + | কারো অস্তিত্ব সম্ভব। | ||
| + | < | ||
| + | বড় মানুষ বানাতে পারে নাই যে বিশাল সাগর হেঁটেই | ||
| + | পার হতে পারে, | ||
| + | দিতে পারে, | ||
| + | বেঁচে থাকে? | ||
| + | উপাদান যার থেকে কি জন্মাতে পারবে তাও আগে থেকে | ||
| + | ঠিক করে দেয়া আছে। অতএব আমাদের মানতেই হবে | ||
| + | শূন্য থেকে সৃষ্টি করা অসম্ভব, | ||
| + | সুস্থির বীজ লাগে যা থেকে প্রত্যেক জীব জন্ম গ্রহণ | ||
| + | করে মর্তের মন্দ হাওয়ায়। | ||
| + | < | ||
| + | চাষ-না-করা জমির চেয়ে চাষ-করা জমি বহুগুণে ভালো | ||
| + | এবং হাতের শ্রমে দেয় অনেক বাড়তি ফলন, সেহেতু | ||
| + | বুঝাই যায় মাটিতে সে আদিম উপাদান আছে যা আমরা | ||
| + | জীবন্ত করি লাঙ্গল দিয়ে উর্বর মাটি উল্টায়ে | ||
| + | আর ভিজা সব ঢেলা দলাইমলাই করে। যদি না থাকত | ||
| + | তাহলে দেখতা আমাদের শ্রম ছাড়া সবকিছু স্বেচ্ছায় | ||
| + | আরো ভালো বড় হতো।</ | ||
| + | |||
| + | ===== দ্বিতীয় সূত্র ===== | ||
| + | < | ||
| + | < | ||
| + | **সবকিছু তাদের আদিম উপাদানে বিলীন করে, কিন্তু** | ||
| + | **কোনকিছুই শূন্য করে দেয় না**। কারণ কোনকিছুর সকল | ||
| + | অংশ যদি ধ্বংস করা যেত তবে সবকিছু একসাথে | ||
| + | এক নিমিখে চোখের সামনে থেকে হয়ে যেত অদৃশ্য; | ||
| + | কারণ কারো অংশগুলার মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন | ||
| + | করে তাকে শতচ্ছিন্ন করে দিতে কোনো বল লাগত না। | ||
| + | কিন্তু ঘটনা হল সবকিছুর বীজ অনন্ত হওয়ায় | ||
| + | প্রকৃতি কারো ধ্বংস দেখতেই দেয় না যতক্ষণ না | ||
| + | পর্যাপ্ত বড় কোনো বল তাকে বাহির থেকে বিচূর্ণ | ||
| + | বা ভিতরের ভয়েডে ঢুকে বিদীর্ণ করে। | ||
| + | < | ||
| + | বছরের ব্যবধানে যা-কিছু সরায়ে নেয় সব যদি পুরা- | ||
| + | পুরি সাবাড় করেই দিত তাহলে ভিনাস আবার কি দিয়ে | ||
| + | প্রত্যেক প্রজাতির নতুন সৃষ্টি আনে প্রাণের আলোতে | ||
| + | আর জন্মের পরে নিপুণ পৃথিবী প্রতি জাতের শিশুকে | ||
| + | কোথা থেকে তার তার মতো খাদ্য পুষ্টি দিয়ে বড় করে? | ||
| + | ভিতরের সব ঝরনা আর বাহিরে বহু দূর হতে আসা | ||
| + | নদনদী কোত্থেকে পানি এনে বারবার সাগর পূর্ণ | ||
| + | করে? ইথার কেমনে পালে তারার পাল? নশ্বর শরীর | ||
| + | দিয়ে যে তৈরি তার তো বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা অনাদি | ||
| + | অতীত কালের শূন্য গর্ভে। তবে এই অসীম সময় | ||
| + | ধরে যদি এমন জিনিস থেকে থাকে যা থেকে এ সবকিছু | ||
| + | বারবার পাইছে জীবন তবে সে জিনিস নিঃসন্দেহে | ||
| + | অবিনশ্বর। অতএব কোনকিছু সম্পূর্ণ শূন্য | ||
| + | হয়ে যাইতে পারে না। | ||
| + | < | ||
| + | কোনো বাছবিচার ছাড়া সব ধ্বংস করে দিত যদি সেই | ||
| + | শাশ্বত পদার্থ তাদের অংশগুলা অন্তরঙ্গ | ||
| + | এক বাঁধনে নিবিড়ভাবে বেঁধে না রাখত, | ||
| + | স্পর্শই যথেষ্ট হতো ধ্বংসের জন্য যদি অমর | ||
| + | উপাদানের এমন কোনো কণা না থাকত যাদের বুনন | ||
| + | ভাঙতে হলে বিশেষ রকমের বল লাগে। কিন্তু ব্যাপার | ||
| + | হলো একেক মৌল একেক বন্ধনে বাঁধা এবং তাদের | ||
| + | উপাদান অবিনাশী, | ||
| + | থাকে যতক্ষণ না তাদের পদার্থের বুনন ভাঙার | ||
| + | মতন শক্তিশালী কোনো বল আসে। সুতরাং কোনকিছু | ||
| + | একা একা শূন্য হয়ে যেতে পারে না, সবকিছু ভাঙনের | ||
| + | পরে মৌলিক উপাদান হয়ে যায়। | ||
| + | < | ||
| + | ফোঁটা পিতা ইথারের তল থেকে মাতা পৃথিবীর গোল কোলে | ||
| + | পড়ার সাথে-সাথেই নাই হয়ে যায়, কিন্তু তাহার পরে | ||
| + | উজ্জ্বল ফসল জাগে, | ||
| + | বড় হয়ে ভারী হয় ফলের ভারে, | ||
| + | খাবার পাই আমরা আর সব বন্যেরা, | ||
| + | বানানো আনন্দের নগরে ফুটে ফুলের মতো শিশু আর | ||
| + | পাতাঘেরা বন মুখরিত হয় নবাগত পাখিদের গানে; | ||
| + | গবাদি পশুর পাল চর্বির ভারে হেলে দুলে শুয়ে থাকে | ||
| + | সবুজ ঘাসের মাঠে, | ||
| + | ফোয়ারা ছোটে, | ||
| + | অস্থি' | ||
| + | দুধে এত অস্থির হয় তাদের হৃদয়। অতএব কোনো | ||
| + | দৃশ্যমান বস্তু সম্পূর্ণ শূন্য হয় না, কারণ | ||
| + | প্রকৃতি এক জিনিস দিয়ে আরেক জিনিস বানায় এবং | ||
| + | এক জনের মৃত্যু ছাড়া আরেক জনের জন্ম কখনো | ||
| + | হইতে দেয় না।</ | ||
| + | |||
| + | ==== পরমাণুর প্রমাণ ==== | ||
| + | < | ||
| + | < | ||
| + | থেকে কিছুই সৃষ্টি করা যায় না এবং জন্মের পরে | ||
| + | কোনকিছুই শূন্যে ফিরায়ে নেয়া যায় না, আশা করি তুমি | ||
| + | আমার কথা মানবা, | ||
| + | পারো কারণ আদিম উপাদান খালি চোখে দেখাই যায় না, | ||
| + | তাই এখন এমন কিছু জিনিসের কথা বলব যেগুলা | ||
| + | নিঃসন্দেহে আছে কিন্তু দেখা যায় না। | ||
| + | < | ||
| + | নিয়ে কথা বলি: ঝড় ঠিকঠাক জমে উঠলে সমুদ্রের | ||
| + | গায়ে চাবুক মারে, | ||
| + | কখনো প্রবল ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ের উপর থেকে গাছ | ||
| + | উপড়ায় ভয়ানক আঘাতে এবং সমতলের উপর | ||
| + | দিয়ে প্রচণ্ড বেগে যাওয়ার সময় গাছগুলা আছড়ায়ে | ||
| + | মারে মাটিতে; | ||
| + | এত বর্বর তার গর্জন। তাই বাতাস অবশ্যই | ||
| + | দেখা যায় না এমন পদার্থ দিয়ে তৈরি যারা সাগর | ||
| + | আর ভূমি একসাথে ঝেড়ে সাফ করে, আকাশের মেঘকেও | ||
| + | ছাড়ে না, হঠাৎ কোনো হারিকেনে বন্দি করে উড়ায়ে নিয়ে | ||
| + | যায় বহু দূরে। এদের চলার ধারা ও ধ্বংসের ক্ষমতা | ||
| + | ঠিক পানির মতন, পানি অনেক কোমল হলেও হঠাৎ | ||
| + | উপচায়ে পড়া স্রোতে ছুটে চলে যখন উঁচু পাহাড় থেকে | ||
| + | নেমে আসে বিপুল পরিমাণ জল, আর ভারী বৃষ্টির | ||
| + | মুষলধারায় আরো উথলে উঠে বন্যা, | ||
| + | অগণিত গাছ তুলে নিয়ে যায় ধ্বংসস্তূপের মতন, | ||
| + | পাহাড়ি পানির এই আচানক চাপ সহ্য করতে পারে | ||
| + | না কোনো সেতু, | ||
| + | আছড়ায়ে পড়ে মোটা স্তম্ভে, | ||
| + | আগায়ে যায় ধ্বংস হাতে, | ||
| + | পাথর গড়ায়ে নিয়ে চলে, পথে যাই পড়ে তাই নেয় | ||
| + | ভাসায়ে। সুতরাং বাতাসের ঝঞ্ঝা নিশ্চিত এভাবেই | ||
| + | কাজ করে, প্রমত্তা নদীর মতো যেদিকে যায় সেদিকেই | ||
| + | সব ঝেড়ে সাফ করে মুহুর্মুহু আঘাতে এবং কখনো | ||
| + | ঘূর্ণিপাকের ঘেরে জিনিসপত্র বন্দি করে ঘুরাতে | ||
| + | ঘুরাতে কোনো ক্ষিপ্র টর্নেডোর নাভিতে করে নিয়ে চলে। | ||
| + | তাই আমি বার বার বলতেছি বাতাসেরও অদৃশ্য | ||
| + | পদার্থ আছে, যেহেতু কাজে কর্মে তার প্রতিদ্বন্দ্বী | ||
| + | মস্ত সব নদী যাদের পদার্থ দেখা যায়। | ||
| + | </ | ||
| + | |||
bn/multiverse/de-rerum-natura/i.1681984094.txt.gz · Last modified: by asad
