Differences
This shows you the differences between two versions of the page.
Next revision | Previous revision | ||
bn:multiverse:de-rerum-natura:i [2023/04/18 12:17] – created asad | bn:multiverse:de-rerum-natura:i [2023/04/21 15:21] (current) – external edit 127.0.0.1 | ||
---|---|---|---|
Line 1: | Line 1: | ||
====== বিশ্বপ্রকৃতি: | ====== বিশ্বপ্রকৃতি: | ||
+ | |||
+ | ===== ভিনাস বন্দনা ===== | ||
+ | < | ||
+ | বিপুলা < | ||
+ | আড়ালে থেকে নিজেকে উজার করো জাহাজ-ভরা সমুদ্রে, | ||
+ | ফসল-ফলানো পৃথিবীতে, | ||
+ | জগতের সব জীব জন্ম নেয় দেখতে দুই চোখ ভরে | ||
+ | সূর্যের আলো; তোমার আগমনেই বাতাস পালায়, | ||
+ | ছত্রভঙ্গ হয় মেঘ; তোমার জন্য নিপুণ পৃথিবী | ||
+ | সাজায় ফুলের ডালি, | ||
+ | আর শান্ত আকাশ ঝলমল করে আলোকের ঝরনায়। | ||
+ | যখন বসন্তের প্রথম দিন দেখায় তার মুখ আর | ||
+ | পশ্চিমের নতুন বাতাস ছড়ায়ে পড়ে সব বাধ ভেঙে, | ||
+ | তখন প্রথমে আকাশের পাখিরা তোমার আগমনি গায়, | ||
+ | দেবী, | ||
+ | তারপর পোষা আর বন্য প্রাণীর দল সবুজ ঘাসের | ||
+ | মাঠে ছুটাছুটি করে ও সাঁতার কাটে খরস্রোতা নদীতে, | ||
+ | তোমার মায়ায় বিমোহিত হয়ে সব তোমার পিছনে ধায় | ||
+ | তুমি যেদিকেই নিয়ে যাও। সাগরে পাহাড়ে ঝরনার স্রোতে, | ||
+ | পাখিদের পাতার বাড়িতে ও শ্যামল প্রান্তরে সকলের | ||
+ | অন্তরে যাদুকরী প্রেম প্রবাহিত করে সব প্রজাতিকে | ||
+ | তুমি নিজেদের মতো নতুন নতুন প্রজন্মের জন্ম | ||
+ | দিতে প্ররোচিত করো। | ||
+ | < | ||
+ | বিশ্বপ্রকৃতির বিধানকর্তা, | ||
+ | কেউ জন্মাতে পারে না আলোর সৈকতে, | ||
+ | সুখী আর সুন্দর কিছু, | ||
+ | আমার এ কবিতার সঙ্গী হিসাবে, | ||
+ | বিষয়ে যা লিখতেছি আমি আমার বন্ধু < | ||
+ | জন্য, | ||
+ | সব কাজে। অতএব আরো বেশি করে, দেবী, | ||
+ | ঢালো অমৃত সুধা। | ||
+ | < | ||
+ | যুদ্ধের যত সব হিংস্র যজ্ঞরে দাও ঘুম পাড়ায়ে, | ||
+ | কারণ কেবল তুমি মানুষকে পারো খুশি করতে নীরব | ||
+ | শান্তি দিয়ে, | ||
+ | যুদ্ধোন্মাদ নেতা < | ||
+ | অনির্বাণ আগুনে পরাস্ত হয়ে ঢলে পড়ে তোমারই | ||
+ | কোলে এবং সুঠাম ঘাড় পিছনে এলায়ে হাঁ করে তোমার | ||
+ | মুখের দিকে তাকায়ে তৃপ্ত করে তার তৃষ্ণার্ত চোখ, | ||
+ | শোয়া তার ভারী নিশ্বাস ছুঁয়ে-ছুঁয়ে যায় তোমার অধর। | ||
+ | এভাবে তোমার পূত শরীরে শুয়ে থাকার সময় উপর | ||
+ | থেকে দুই হাতে তাকে জড়ায়ে ধরে ঠোঁট থেকে মধুর কথা | ||
+ | ঝরায়ে চাও তোমার রোমানদের জন্য নীরব শান্তি। | ||
+ | কারণ দেশের এই অরাজকতার মাঝে আমি পারব না | ||
+ | নিশ্চিন্ত মনে আমার অংশ করতে, | ||
+ | বংশের এ মহান সন্তান পারবে না এমন সময়ে | ||
+ | দশের মঙ্গলের কাজে অবহেলা করতে। | ||
+ | < | ||
+ | কারণ দেবতাদের প্রকৃতি এমন যে তারা অনন্ত | ||
+ | জীবন যাপন করে চূড়ান্ত শান্তিতে আমাদের সব | ||
+ | কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে অনেক দূরে; | ||
+ | ছাড়া, | ||
+ | তাদের কিছু লাগে না আমাদের থেকে; | ||
+ | না ইবাদতে বা ক্ষুণ্ণ হয় না বিদ্রোহে।</ | ||
+ | |||
+ | ===== মেম্মিউসের প্রতি ===== | ||
< | < | ||
+ | < | ||
+ | তোমার সজাগ কান আর মনোযোগী মন সব পিছুটান | ||
+ | ভুলে নিয়োজিত করো সত্য দর্শনে, | ||
+ | ব্যাকুলতায় বানানো আমার এ উপহার বুঝার আগেই | ||
+ | তাচ্ছিল্যের সাথে ফেলে না দাও। কারণ তোমার জন্য | ||
+ | আমি এখন বলব দেবতা ও স্বর্গের সবচেয়ে উঁচু | ||
+ | জগতের কথা, বলব সবার আদিম উপাদানের কথা, | ||
+ | যার থেকে প্রকৃতি সব জিনিস বানায়, | ||
+ | লালন করে, এবং যার মাঝে বিলয়ের পরে সবকিছু | ||
+ | আবার বিলায়ে দেয়, যাকে দর্শন আলোচনার সময় | ||
+ | আমরাই ডাকি মৌলিক পদার্থ, | ||
+ | সর্বজনীন বীজ, আর প্রথম জিনিস, | ||
+ | থেকেই সকল কিছুর সৃষ্টি। | ||
+ | < | ||
+ | সবখানে সকলের চোখের সামনে মাটিতে দলতেছিল | ||
+ | ধর্মের ভয়ানক ভারে---যে স্বর্গ থেকে মাথা বের করে | ||
+ | নশ্বর মানুষের দিকে তাকাত ভয়ংকর মুখ করে--- | ||
+ | তখন প্রথম < | ||
+ | তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াইছিল, | ||
+ | পৌরাণিক কাহিনি বা বিদ্যুৎ বা বজ্রের হুঙ্কার | ||
+ | কিচ্ছু তাঁকে দমাইতে পারে নাই, উল্টা তাঁর আত্মার | ||
+ | নির্ভীক উৎসাহ আরো উস্কে দিছিল, | ||
+ | মানুষের মধ্যে প্রথম ভাঙছিলেন দুনিয়ার বন্ধ | ||
+ | দুয়ারের অর্গল। এইভাবে জিতছিল তাঁর চেতনার | ||
+ | সতেজ শক্তি, | ||
+ | প্রজ্জ্বলিত প্রাচীর, | ||
+ | করছিলেন অসীম অমিত < | ||
+ | জয় শেষে ফিরে এসে পুরস্কার হিসাবে জানাইছিলেন | ||
+ | কোন জিনিস অস্তিত্ব নিতে পারে কোন জিনিস পারে না, | ||
+ | এক কথায় কিভাবে সব জিনিসের শক্তি সীমাবদ্ধ | ||
+ | সুগভীর সনাতন সীমান্তরেখা দিয়ে। অতএব আজ | ||
+ | উল্টা সংস্কার দলতেছে পদতলে আর তাঁর জয়লাভ | ||
+ | আমাদের নিয়ে গেছে স্বর্গের সমতলে। | ||
+ | < | ||
+ | তুমি হয়ত ভাববা দর্শন পাঠ পাপ আর এই পথে | ||
+ | চলে আমরা যাচ্ছি অপরাধ জগতে। হতেই পারে না, | ||
+ | বরং কুসংস্কার তৈরি করছে বেশি অপরাধ পাপ: | ||
+ | ভেবে দেখো, | ||
+ | রক্ত দিয়ে কিভাবে কলুষিত করছিল গ্রিক জনতার | ||
+ | নির্বাচিত নেতারা। কুমারী চুলে যখন বাঁধা হইছিল | ||
+ | দুই গাল ছুঁয়ে গড়ায়ে পড়া সমান দৈর্ঘের দুই ফিতা, | ||
+ | যখনি সে দেখছিল বেদির সামনে তার পিতার করুণ | ||
+ | মুখ, পাশে ধার ছুরি আড়াল করে দাঁড়ানো সব পুরোহিত | ||
+ | আর সম্মুখে তাকে দেখে অশ্রু ঝরানো হাজার মানুষ | ||
+ | তক্ষুনি বোবা আতঙ্কে দুই হাঁটু গেড়ে ঢলে পড়ছিল | ||
+ | মাটিতে। তখন অভাগিনীর এটা কোনো কাজে আসে নাই যে | ||
+ | রাজাকে প্রথম বাবা নামটা সে-ই দিছিল; | ||
+ | থরথর কম্পিত মেয়েটাকে তুলে নিয়ে গেছিল বেদিতে, | ||
+ | পবিত্র ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে হাইমেনের গীত | ||
+ | কেউ গায় নাই, বরং বিয়ের বয়সী এক পরিষ্কার | ||
+ | কুমারীকে কুরবানি করা হইছিল খুব কদর্যভাবে | ||
+ | নিজের বাবার হাত দিয়ে, | ||
+ | জন্য ট্রয়ের দিকে অনুকূল বাতাস বহে। কুসংস্কার | ||
+ | এমনই অশুভের দিকে নিয়ে যেতে পারে। | ||
+ | < | ||
+ | একদিন আমাদের ছেড়ে চলে যাবা পুরোহিতদের ভয়ে | ||
+ | ভরা নসিহত শুনে। আরে ওরা এক্ষুনি এমন অনেক | ||
+ | স্বপ্ন বানায়ে দিতে পারবে যাতে তোমার জীবনের ছক | ||
+ | ছত্রভঙ্গ হয়, ভাগ্যের জায়গা দখল করে ভয়। | ||
+ | পারবে নাই বা কেন! মানুষ যদি জানত সব কষ্টের | ||
+ | সীমা আছে তাহলে যাজকদের কুসংস্কার বা হুঙ্কার | ||
+ | পরোয়া না করার শক্তি পেত, কিন্তু বাস্তবতা হল | ||
+ | প্রতিরোধের ক্ষমতা কারোই নাই, কারণ আছে পরকালে | ||
+ | অনন্ত শাস্তির শঙ্কা। কারণ মানুষের অজ্ঞতা | ||
+ | আছে আত্মার প্রকৃতি নিয়ে, | ||
+ | জন্মায় নাকি জন্মের সময় বাইরে থেকে দেহে ঢুকে, | ||
+ | মৃত্যুর মাধ্যমে দেহ ভেঙে গেলে নাই হয়ে যায় নাকি | ||
+ | অর্কুসের অন্ধকারে গহীন গুহায় ঘুরাঘুরি করে | ||
+ | নাকি দৈবের বশে প্রবেশ করে অন্য প্রাণীদের দেহে, | ||
+ | যেমন গেয়ে গেছেন আমাদের < | ||
+ | মনোরম হেলিকন থেকে চিরহরিৎ পাতার মালা এনে | ||
+ | গৌরব কুড়াইছিলেন ইতালির সব গোষ্ঠীর কাছে, | ||
+ | অথচ এই তিনিই অমর গানে গেলেন বলে, আছে নাকি | ||
+ | < | ||
+ | আমাদের আত্মা বা দেহ, তবে পারে তাদের মতো দেখতে | ||
+ | অদ্ভুত পাণ্ডুর কিছু জিনিস, | ||
+ | নাকি অবিনশ্বর হোমারের ছায়া জেগে নোনতা অশ্রু | ||
+ | ঝরাতে ঝরাতে তার কাছে প্রকাশ করতে শুরু করছিল | ||
+ | বিশ্বের প্রকৃতি। | ||
+ | < | ||
+ | ফুটায়ে তুলতে হবে গগনের গতিবিধি, | ||
+ | আর চাঁদ ঘুরে, | ||
+ | কাজ করে, তবে সবচেয়ে বেশি দরকার সূক্ষ্ম যুক্তি | ||
+ | দিয়ে যাচাই করা আত্মা কি দিয়ে তৈরি, | ||
+ | কেমন, | ||
+ | মনকে আতঙ্কিত করে, গভীর ঘুমের সময় এমন | ||
+ | ভাবে ভর করে যে মনে হয় এমন কাউকে দেখতেছি বা | ||
+ | শুনতেছি যে আসলে মারা গেছে বহু আগে, যার হাড়গোড় | ||
+ | চুরমার হয়ে গেছে ভূমির আলিঙ্গনে। | ||
+ | < | ||
+ | গ্রিকদের নিগূঢ় আবিষ্কার লাতিন কবিতায় প্রকাশ | ||
+ | করা অনেক কঠিন, | ||
+ | বানাতে হয় অনেক, | ||
+ | এবং বিষয়টাও নতুন, | ||
+ | বন্ধুত্বের আসন্ন আনন্দ আমাকে রাজি করাল | ||
+ | এ পরিশ্রম মানতে, | ||
+ | খুঁজতে সেই সব শব্দ আর কাব্য যা দিয়ে অবশেষে | ||
+ | তোমার মনে জ্বালতে পারব পরিষ্কার আলো যাতে তুমি | ||
+ | বস্তুর অন্তর দেখতে পারো। | ||
+ | </ | ||
+ | ===== প্রথম সূত্র ===== | ||
+ | < | ||
+ | < | ||
+ | আর এই কুহেলিকা দূর করতেই হবে, তবে সূর্যের | ||
+ | কিরণ বা দিনের উজ্জ্বল রশ্মি দিয়ে না, প্রকৃতির | ||
+ | স্বরূপ আর সূত্র দিয়ে। এবং প্রথম সূত্র আমরা | ||
+ | নিব এই | ||
+ | **বলে কখনোই কোনকিছু তৈরি হয় না**। একটা বিশাল | ||
+ | আতঙ্কের আঁচলে সব মানুষ আটক, কারণ স্বর্গে | ||
+ | মর্তে তারা এমন অনেক কিছু ঘটতে দেখে যার কোনো | ||
+ | কারণ দেখতে পায় না এবং তাই ভেবে বসে সেই সব | ||
+ | ঘটতেছে দৈবের শক্তিতে। অতএব আমরা যখন | ||
+ | দেখব শূন্য থেকে কিছু বানানো যায় না তখন অনেক | ||
+ | সঠিকভাবে চিনতে পারব সেই উৎস যার মাধ্যমে | ||
+ | সব জিনিস বানানো যায় এবং বুঝতে পারব কিভাবে | ||
+ | দেবতাদের প্রভাব ছাড়া সবকিছু ঘটে। | ||
+ | < | ||
+ | থেকে কিছু জন্মাতে পারলে সবকিছু থেকেই সবকিছু | ||
+ | তৈরি করা যাইত, | ||
+ | সাগর থেকে মানুষ, | ||
+ | আকাশে বাচ্চা হতো পাখির; | ||
+ | ধরনের বন্য জন্তু দিয়ে সমানভাবে ভরে যাইত | ||
+ | মরুভূমি ও আবাদি জমি, কারো জন্মের ঠিক থাকত না। | ||
+ | তাছাড়া একই গাছ সব সময় একই ফল ফলাত না, | ||
+ | একেক বার একেক ফল দিত, সব গাছে সব ফল পাওয়া | ||
+ | যেত। প্রত্যেক জাত তৈরির আলাদা বীজ যদি নাই থাকে | ||
+ | তবে সবার অপরিবর্তনীয় ধ্রুব মাতা কেমনে থাকে? | ||
+ | তাই আসলে যেহেতু সবাই নির্ধারিত বীজ থেকে আসে | ||
+ | সেহেতু যা কিছু জন্ম নিয়ে এই আলোর সৈকতে ভাসে | ||
+ | তাদের সবার উৎসের মাঝেই নিহিত আছে নিশ্চিত | ||
+ | তাদের মৌলিক পদার্থ, | ||
+ | সবকিছু থেকে সবকিছু জন্মায় না কারণ প্রত্যেক | ||
+ | বস্তুর ভিতরে আছে অনন্য ক্ষমতা। | ||
+ | < | ||
+ | কেন শুধু | ||
+ | শরতের ষড়যন্ত্রে যদি না তাদের নির্ধারিত বীজ | ||
+ | নির্দিষ্ট সময়ে একত্রিত হলেই কেবল নতুন | ||
+ | সৃষ্টি উন্মোচিত হয়, বা যদি উপযুক্ত ঋতু ও সজীব | ||
+ | পৃথিবী নতুন ও নরম বাচ্চাগুলাকে আলোর বেলায় | ||
+ | নিরাপদে নিয়ে না আসে? শূন্য থেকে যদি এরা জন্মাতে | ||
+ | পারত তবে তো চলে আসত হঠাৎ একেক বার একেক | ||
+ | সময় বা বছরের প্রতিকূল ঋতুতে; | ||
+ | এমন কোনো আদিম বীজ থাকত না যাকে প্রতিকূল ঋতু | ||
+ | সৃজনশীল মিলন থেকে ফিরাইতে পারে। | ||
+ | < | ||
+ | লাগত না কারো বড় হতে বা নিজের বীজ জমাইতে যদি | ||
+ | শূন্য থেকে বৃদ্ধি সম্ভব হতো; কারণ তখন কচি বাচ্চা | ||
+ | চোখের নিমিখে হয়ে যেত যুবতী, | ||
+ | ফুস করে ফুঁড়ে উঠে যেত বিরাট বৃক্ষ। তবে নিশ্চয়ই | ||
+ | এসব কিছুই ঘটে না বরং সবকিছু ধীরে ধীরে বাড়ে | ||
+ | নির্ধারিত বীজ থেকে ও বাড়ার সময় যার যার জাত | ||
+ | সংরক্ষণ করে; তাই বুঝতেই পারতেছ প্রত্যেকে | ||
+ | বড় হয় এবং পুষ্টি পায় তার নিজের মানানসই | ||
+ | কাঁচামাল থেকে। | ||
+ | < | ||
+ | কাল না আসলে এই পৃথিবী তার মজার ফলের বাহার | ||
+ | আনতে পারে না, আর খেতে না পারলে কোনো প্রাণী সন্তান | ||
+ | জন্ম দিয়ে বংশ রক্ষা করতে পারত না; সুতরাং | ||
+ | সহজেই বিশ্বাস করা যায় যে সকল কিছুর মধ্যে | ||
+ | কমন কিছু মৌল পদার্থ আছে ঠিক যেমন অনেক | ||
+ | শব্দের মধ্যে কমন কিছু অক্ষর থাকে, | ||
+ | কিছুতেই বিশ্বাস কইরো না যে আদিম উপাদান ছাড়া | ||
+ | কারো অস্তিত্ব সম্ভব। | ||
+ | < | ||
+ | বড় মানুষ বানাতে পারে নাই যে বিশাল সাগর হেঁটেই | ||
+ | পার হতে পারে, | ||
+ | দিতে পারে, | ||
+ | বেঁচে থাকে? | ||
+ | উপাদান যার থেকে কি জন্মাতে পারবে তাও আগে থেকে | ||
+ | ঠিক করে দেয়া আছে। অতএব আমাদের মানতেই হবে | ||
+ | শূন্য থেকে সৃষ্টি করা অসম্ভব, | ||
+ | সুস্থির বীজ লাগে যা থেকে প্রত্যেক জীব জন্ম গ্রহণ | ||
+ | করে মর্তের মন্দ হাওয়ায়। | ||
+ | < | ||
+ | চাষ-না-করা জমির চেয়ে চাষ-করা জমি বহুগুণে ভালো | ||
+ | এবং হাতের শ্রমে দেয় অনেক বাড়তি ফলন, সেহেতু | ||
+ | বুঝাই যায় মাটিতে সে আদিম উপাদান আছে যা আমরা | ||
+ | জীবন্ত করি লাঙ্গল দিয়ে উর্বর মাটি উল্টায়ে | ||
+ | আর ভিজা সব ঢেলা দলাইমলাই করে। যদি না থাকত | ||
+ | তাহলে দেখতা আমাদের শ্রম ছাড়া সবকিছু স্বেচ্ছায় | ||
+ | আরো ভালো বড় হতো।</ | ||
+ | |||
+ | ===== দ্বিতীয় সূত্র ===== | ||
+ | < | ||
+ | < | ||
+ | **সবকিছু তাদের আদিম উপাদানে বিলীন করে, কিন্তু** | ||
+ | **কোনকিছুই শূন্য করে দেয় না**। কারণ কোনকিছুর সকল | ||
+ | অংশ যদি ধ্বংস করা যেত তবে সবকিছু একসাথে | ||
+ | এক নিমিখে চোখের সামনে থেকে হয়ে যেত অদৃশ্য; | ||
+ | কারণ কারো অংশগুলার মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন | ||
+ | করে তাকে শতচ্ছিন্ন করে দিতে কোনো বল লাগত না। | ||
+ | কিন্তু ঘটনা হল সবকিছুর বীজ অনন্ত হওয়ায় | ||
+ | প্রকৃতি কারো ধ্বংস দেখতেই দেয় না যতক্ষণ না | ||
+ | পর্যাপ্ত বড় কোনো বল তাকে বাহির থেকে বিচূর্ণ | ||
+ | বা ভিতরের ভয়েডে ঢুকে বিদীর্ণ করে। | ||
+ | < | ||
+ | বছরের ব্যবধানে যা-কিছু সরায়ে নেয় সব যদি পুরা- | ||
+ | পুরি সাবাড় করেই দিত তাহলে ভিনাস আবার কি দিয়ে | ||
+ | প্রত্যেক প্রজাতির নতুন সৃষ্টি আনে প্রাণের আলোতে | ||
+ | আর জন্মের পরে নিপুণ পৃথিবী প্রতি জাতের শিশুকে | ||
+ | কোথা থেকে তার তার মতো খাদ্য পুষ্টি দিয়ে বড় করে? | ||
+ | ভিতরের সব ঝরনা আর বাহিরে বহু দূর হতে আসা | ||
+ | নদনদী কোত্থেকে পানি এনে বারবার সাগর পূর্ণ | ||
+ | করে? ইথার কেমনে পালে তারার পাল? নশ্বর শরীর | ||
+ | দিয়ে যে তৈরি তার তো বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা অনাদি | ||
+ | অতীত কালের শূন্য গর্ভে। তবে এই অসীম সময় | ||
+ | ধরে যদি এমন জিনিস থেকে থাকে যা থেকে এ সবকিছু | ||
+ | বারবার পাইছে জীবন তবে সে জিনিস নিঃসন্দেহে | ||
+ | অবিনশ্বর। অতএব কোনকিছু সম্পূর্ণ শূন্য | ||
+ | হয়ে যাইতে পারে না। | ||
+ | < | ||
+ | কোনো বাছবিচার ছাড়া সব ধ্বংস করে দিত যদি সেই | ||
+ | শাশ্বত পদার্থ তাদের অংশগুলা অন্তরঙ্গ | ||
+ | এক বাঁধনে নিবিড়ভাবে বেঁধে না রাখত, | ||
+ | স্পর্শই যথেষ্ট হতো ধ্বংসের জন্য যদি অমর | ||
+ | উপাদানের এমন কোনো কণা না থাকত যাদের বুনন | ||
+ | ভাঙতে হলে বিশেষ রকমের বল লাগে। কিন্তু ব্যাপার | ||
+ | হলো একেক মৌল একেক বন্ধনে বাঁধা এবং তাদের | ||
+ | উপাদান অবিনাশী, | ||
+ | থাকে যতক্ষণ না তাদের পদার্থের বুনন ভাঙার | ||
+ | মতন শক্তিশালী কোনো বল আসে। সুতরাং কোনকিছু | ||
+ | একা একা শূন্য হয়ে যেতে পারে না, সবকিছু ভাঙনের | ||
+ | পরে মৌলিক উপাদান হয়ে যায়। | ||
+ | < | ||
+ | ফোঁটা পিতা ইথারের তল থেকে মাতা পৃথিবীর গোল কোলে | ||
+ | পড়ার সাথে-সাথেই নাই হয়ে যায়, কিন্তু তাহার পরে | ||
+ | উজ্জ্বল ফসল জাগে, | ||
+ | বড় হয়ে ভারী হয় ফলের ভারে, | ||
+ | খাবার পাই আমরা আর সব বন্যেরা, | ||
+ | বানানো আনন্দের নগরে ফুটে ফুলের মতো শিশু আর | ||
+ | পাতাঘেরা বন মুখরিত হয় নবাগত পাখিদের গানে; | ||
+ | গবাদি পশুর পাল চর্বির ভারে হেলে দুলে শুয়ে থাকে | ||
+ | সবুজ ঘাসের মাঠে, | ||
+ | ফোয়ারা ছোটে, | ||
+ | অস্থি' | ||
+ | দুধে এত অস্থির হয় তাদের হৃদয়। অতএব কোনো | ||
+ | দৃশ্যমান বস্তু সম্পূর্ণ শূন্য হয় না, কারণ | ||
+ | প্রকৃতি এক জিনিস দিয়ে আরেক জিনিস বানায় এবং | ||
+ | এক জনের মৃত্যু ছাড়া আরেক জনের জন্ম কখনো | ||
+ | হইতে দেয় না।</ | ||
+ | |||
+ | ==== পরমাণুর প্রমাণ ==== | ||
+ | < | ||
+ | < | ||
+ | থেকে কিছুই সৃষ্টি করা যায় না এবং জন্মের পরে | ||
+ | কোনকিছুই শূন্যে ফিরায়ে নেয়া যায় না, আশা করি তুমি | ||
+ | আমার কথা মানবা, | ||
+ | পারো কারণ আদিম উপাদান খালি চোখে দেখাই যায় না, | ||
+ | তাই এখন এমন কিছু জিনিসের কথা বলব যেগুলা | ||
+ | নিঃসন্দেহে আছে কিন্তু দেখা যায় না। | ||
+ | < | ||
+ | নিয়ে কথা বলি: ঝড় ঠিকঠাক জমে উঠলে সমুদ্রের | ||
+ | গায়ে চাবুক মারে, | ||
+ | কখনো প্রবল ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ের উপর থেকে গাছ | ||
+ | উপড়ায় ভয়ানক আঘাতে এবং সমতলের উপর | ||
+ | দিয়ে প্রচণ্ড বেগে যাওয়ার সময় গাছগুলা আছড়ায়ে | ||
+ | মারে মাটিতে; | ||
+ | এত বর্বর তার গর্জন। তাই বাতাস অবশ্যই | ||
+ | দেখা যায় না এমন পদার্থ দিয়ে তৈরি যারা সাগর | ||
+ | আর ভূমি একসাথে ঝেড়ে সাফ করে, আকাশের মেঘকেও | ||
+ | ছাড়ে না, হঠাৎ কোনো হারিকেনে বন্দি করে উড়ায়ে নিয়ে | ||
+ | যায় বহু দূরে। এদের চলার ধারা ও ধ্বংসের ক্ষমতা | ||
+ | ঠিক পানির মতন, পানি অনেক কোমল হলেও হঠাৎ | ||
+ | উপচায়ে পড়া স্রোতে ছুটে চলে যখন উঁচু পাহাড় থেকে | ||
+ | নেমে আসে বিপুল পরিমাণ জল, আর ভারী বৃষ্টির | ||
+ | মুষলধারায় আরো উথলে উঠে বন্যা, | ||
+ | অগণিত গাছ তুলে নিয়ে যায় ধ্বংসস্তূপের মতন, | ||
+ | পাহাড়ি পানির এই আচানক চাপ সহ্য করতে পারে | ||
+ | না কোনো সেতু, | ||
+ | আছড়ায়ে পড়ে মোটা স্তম্ভে, | ||
+ | আগায়ে যায় ধ্বংস হাতে, | ||
+ | পাথর গড়ায়ে নিয়ে চলে, পথে যাই পড়ে তাই নেয় | ||
+ | ভাসায়ে। সুতরাং বাতাসের ঝঞ্ঝা নিশ্চিত এভাবেই | ||
+ | কাজ করে, প্রমত্তা নদীর মতো যেদিকে যায় সেদিকেই | ||
+ | সব ঝেড়ে সাফ করে মুহুর্মুহু আঘাতে এবং কখনো | ||
+ | ঘূর্ণিপাকের ঘেরে জিনিসপত্র বন্দি করে ঘুরাতে | ||
+ | ঘুরাতে কোনো ক্ষিপ্র টর্নেডোর নাভিতে করে নিয়ে চলে। | ||
+ | তাই আমি বার বার বলতেছি বাতাসেরও অদৃশ্য | ||
+ | পদার্থ আছে, যেহেতু কাজে কর্মে তার প্রতিদ্বন্দ্বী | ||
+ | মস্ত সব নদী যাদের পদার্থ দেখা যায়। | ||
</ | </ | ||
+ |
bn/multiverse/de-rerum-natura/i.1681841849.txt.gz · Last modified: 2023/04/18 12:17 by asad